ফারজানা-শারমিনের ফিফটি, নাহিদার ৭ উইকেট

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন যুগের সূচনা হলো শনিবার। প্রথমবারের মতো নারী ক্রিকেটাররা সাদা পোশাকে তিন দিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে মাঠে নেমেছিলেন। এই ঐতিহাসিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা—নিগার সুলতানা জ্যোতি, শারমীন সুপ্তা, রিতু মনিরা।

দ্বিতীয় নারী বিসিএলে মোট চারটি দল অংশগ্রহণ করছে—নর্থ জোন, সেন্ট্রাল জোন, ইষ্ট জোন ও সাউথ জোন। প্রথম দিনে সেন্ট্রাল জোন এবং নর্থ জোনের মধ্যকার ম্যাচে এক দিকে, অন্যদিকে ইষ্ট জোন মুখোমুখি হয়েছে সাউথ জোনের। রাজশাহীর কামরুজ্জামান স্টেডিয়াম ও বাংলা ট্র্যাক মাঠে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নাহিদা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিং

প্রথম দিনের সবচেয়ে আলোচিত পারফরম্যান্স ছিল সেন্ট্রাল জোনের বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তারের। ২৭ ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ৪৮ রানে ৭ উইকেট শিকার করেছেন তিনি, এবং এর মধ্যে ১৫টি মেডেনও দিয়েছেন। নাহিদার অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে নর্থ জোনের ইনিংস মাত্র ২৪০ রানে গুটিয়ে যায়। সেন্ট্রাল জোন ব্যাটিংয়ে নেমে দিন শেষে ২৫ রানে ২ উইকেট হারিয়েছে।

ব্যাটিং পারফরম্যান্স

ব্যাটিংয়ে দ্যুতি ছড়িয়েছেন নর্থ জোনের ফারজানা হক পিংকি ও ইষ্ট জোনের শারমীন সুপ্তা। তবে দুজনের কেউই সেঞ্চুরির দেখা পাননি। ফারজানা ৮৬ রান করেছেন, আর শারমীন ৮৮ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। সাউথ জোনের ওপেনার আয়েশা রহমান ৮২ রানে অপরাজিত ছিলেন, যার সাহায্যে সাউথ জোন দিন শেষে ১ উইকেটে ১৬৪ রানে পৌঁছেছে।

ইষ্ট জোনের ব্যাটিংয়ে শারমীন সুপ্তার ৮৮ রান ছিল সর্বোচ্চ, যেখানে তিনি ১০১ বল মোকাবিলা করে ১৬টি চার এবং ২টি ছক্কা মেরে দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন। ফাহিমা খাতুন ৩৪ রান করেন, আর শরিফা খাতুন ৩০ রান সংগ্রহ করেন। বল হাতে সাউথ জোনের সুলতানা খাতুন ৩০ রানে ৩ উইকেট নেন, এবং প্রীতি দাস, সালমা খাতুন ও রাবেয়া খান ২টি করে উইকেট পান।

নর্থ জোনের ব্যাটিং

নর্থ জোনের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ করেন ফারহানা, যিনি ৮৬ রান করেন ২৪৬ বল খেলে। এর মধ্যে ১০টি চার মেরে তিনি দলের হয়ে বড় ইনিংস খেলেন। আরেক গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স ছিল রিতু মনির ৫৭ রান। শেষদিকে মারুফা আক্তার ২৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

প্রথম দিন শেষে, সেন্ট্রাল জোনের বোলিং তোপে নর্থ জোন ২৪০ রানের বেশি করতে পারেনি, এবং তারা ইনিংস ঘোষণা করে সেন্ট্রাল জোনকে ব্যাটিংয়ে পাঠায়।

নারী ক্রিকেটের এই নতুন সূচনায় যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে বলা যায় যে এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।