নবজাতকের সংক্রমণ

নবজাতকের সংক্রমণ বলতে আমরা একটি শিশু জন্মের পর থেকে প্রথম ২৮ দিনের মধ্যে সংক্রমণ বা Infection  হওয়াকে বুঝি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে দেখা যায়, নবজাতকের মৃত্যুর হার প্রতি ১০০০ জনে ২০ জন। যার মধ্যে নবজাতকের সংক্রমণ অন্যতম একটি কারণ। নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার জন্য তারা সহজেই নানা ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তাই পরিবারের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে করে নবজাতকের সংক্রমণ শনাক্ত করে দ্রুতই চিকিৎসকের আওতায় আনা যায়।

এটি দুই ধরনের হতে পারে

জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হলে Early Onset Neonatal Sepsis  বলা হয়। (প্রারম্ভিক নবজাতকের সংক্রমণ)। জন্মের ৭২ ঘণ্টার পরে হলে Late Onset Neonatal Sepsis  বলা হয়। (বিলম্বিত নবজাতকের সংক্রমণ)।

প্রারম্ভিক নবজাতকের সংক্রমণ

সাধারণত নবজাতকটি শ্বাসকষ্ট নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসে। কী কী কারণে জন্মের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নবজাতকের সংক্রমণ হয়ে থাকে।

স্বল্প ওজন নিয়ে (২৫০০ গ্রাম এর কম) বা সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করলে (৩৭ সপ্তাহ গর্ভকালের আগে)।

শিশু জন্মের আগের ২ সপ্তাহের মধ্যে মায়ের জ¦র থাকলে। মায়ের গর্ভের পানি যদি সবুজ রঙের বা গন্ধযুক্ত হয়।

মায়ের গর্ভের পানি যদি ১৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ভাঙতে থাকে।

মা যদি দীর্ঘ সময় প্রসবে থাকে (২৪ ঘণ্টার বেশি)। শিশু জন্মের পরপর না কাঁদলে।

বিলম্বিত নবজাতকের সংক্রমণ

নবজাতক শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি,জ্বর নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসে।

যে যে কারণে নবজাতক এটিতে আক্রান্ত হতে পারে

মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু খাওয়ালে, যেমন বোতলের দুধ, মধু, পানি। বাড়িতে নতুন অতিথিকে দেখতে আসা মেহমানদের থেকেও নবজাতকের সংক্রমণ হতে পারে।

লক্ষণ : নবজাতের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে (৯৯.৫ক্ক ঋ-এর বেশি) হলে বা শরীর বেশি ঠান্ডা হয়ে গেলে (৯৭.৫ক্ক ঋ-এর কম) হলে, নবজাতক নেতিয়ে পড়লে, বুকের দুধ টেনে খেতে না পারলে, নবজাতক ঘন ঘন শ্বাস নিলে, বুকের খাঁচা ডেবে গেলে, খিঁচুনি, নাভি লাল হয়ে যাওয়া বা নাভি দিয়ে গন্ধযুক্ত পুঁজ পড়া, গায়ে দানা দানা বা র‌্যাশ হলে, নবজাতকের Heart bate  অস্বাভাবিক বেড়ে বা কমে গেলে, মুখ, নাক ইত্যাদি দিয়ে রক্তক্ষরণও হতে পারে, পেট ফুলে গেলে।

পরীক্ষা : রক্তের কিছু পরীক্ষা যেমন রক্ত কণিকার পরিমাপ (CBC), রক্তের কালচার (Blood Culture এবং সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (ঈজচ) পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী শিশুর বুকের এক্স-রে, স্নায়ুতন্ত্রের আল্টাসোনোগ্রাম, প্রস্রাব পরীক্ষা, এমনকি মেরুদন্ড থেকে রস (Cerebrospinal fluid) নিয়েও পরীক্ষা করা হয়ে থাকে ।

চিকিৎসা : সংক্রমণের ধরন বুঝে বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন মেয়াদকালীন সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। এ ছাড়া রক্ত বা রক্তজনিত উপাদানও অনেক সময় প্রদান করা হয়ে থাকে।

প্রতিরোধ : জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ সঙ্গে শাল দুধ দিতে হবে, শিশুকে মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু দেওয়া যাবে না, গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে, নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থা করা, শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে পরিধেয় বস্ত্র, হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

সর্বোপরি শিশুর কোনো সংক্রমণ সন্দেহ হলে অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।