আজ রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন দেশের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী গতকাল শনিবারের মধ্যে ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় দেশের প্রায় ১৩ হাজার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসক এক যোগে এই কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন। এসব চিকিৎসক রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন। তারা হাসপাতালের চাকরিরত চিকিৎসকদের মতোই রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন।
গতকাল ‘ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস সোসাইটি’ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মবিরতি কর্মসূচির তথ্য জানায়।
এ ব্যাপারে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. নুরুন নবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন। ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মবিরতি চলবে। প্রথম দিন আমরা শাহবাগে সমাবেশ করব।’
এই চিকিৎসক নেতা আরও বলেন, ‘আমরা সরকারি হাসপাতালগুলোতে সরকারি চিকিৎসকদের মতোই রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেই। কর্মবিরতিতে গেলে রোগীদের চিকিৎসা সংকট হবে। কিন্তু আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা ২০২২ সাল থেকেই আন্দোলন করছি। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা বেড়ে এখন ভাতা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে আমাদের জীবনযাপন ব্যয় নির্বাহ খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। সুতরাং ভাতা না বাড়লে আমরা আন্দোলন থেকে সরব না।’
চিকিৎসকরা জানান, সব মিলে দেশে প্রায় ১৩ হাজার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকায় রয়েছেন আট হাজারের মতো। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে তিন হাজার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন হাজারের বেশি ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫০০ থেকে ১৬০০ জন চিকিৎসক রয়েছেন।
ডা. নুরুন নবী বলেন, এসব চিকিৎসক সপ্তাহে ৭০-৭২ ঘণ্টা ডিউটি করেন। প্রত্যেকদিন সকালে আমরা হাসপাতালে থাকি।
এ ছাড়া বিকেলে ও রাতে রোস্টার ডিউটি করি। বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, ওটিÑ এসব বিভাগে রোগীদের সেবা দেই।