‘নতুন করে দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার থেকে আনন্দের কিছু নেই’

সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ জহুরা বেগম। ডান হাতে লাঠি নিয়ে গুঁটিগুঁটি পায়ে হাঁটছেন আর বাম হাত ধরে পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন মেয়ে শাহনাজ। তিনি ৩ বছর যাবত ডান চোখে দেখেন না। আর বাম চোখের দৃষ্টিশক্তিও কমে গেছে। দিনদিন বাম চোখটিও প্রায় অন্ধের পথে। বিধবা জহুরার দুই ছেলের মধ্যে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন আরেকজন বিয়ে করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। তবে তার চার মেয়ের সংসারে ৩ মাস করে বছর পার করেন তিনি। আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় চোখের চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।

সোমবার তিনি বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসার খবর পেয়ে ছুটে এসেছেন। এ সময় দেশ রূপান্তর প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তিনি জানান, ডাক্তারকে চোখ দেখিয়েছি। ডান চোখ অপারেশন দিয়েছে। সোমবার চাঁদপুর চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাবে। কাল সকালে অপারেশন করবে। আমি আবার নতুন করে দৃষ্টি ফিরে পাব এর থেকে আনন্দের কিছু নেই।

শুধু জহুরা বেগমই নন, এ রকম অনুভূতি ১০৫ জন দৃষ্টিশক্তি হারানো দুস্ত মানুষের। আরেক বৃদ্ধ কুলসুম বেগম তিনিও ষাটোর্ধ। বার্ধক্যজনিত কারণে চোখে দেখেন না। অপারেশনের পরে চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন এ আনন্দে কেঁদে ফেলেন তিনি।

সামাদ বেপারী (৬৯) জানান, আমি জেলে কাজ করতাম। এক চোখের দৃষ্টি হারানোর পর থেকে কাজ করতে পারি না। আমার একটা ছেলে আছে। ছেলেটা হকারী করে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। আমার চোখের চিকিৎসা করাবে কিভাবে। রবিউল মাঝি বলেন, আয়োজকদের জন্য মন থেকে অনেক দোয়া করি। এমন মানবিক সহায়তা যেন সমাজের প্রতিটি এলাকায় হয়।

আজ সোমবার দিনব্যাপী মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খড়িয়া মুক্তি সংঘের আয়োজনে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ও লেন্স সংযোজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাজহারুল বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ১৫ জনের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চোখের চিকিৎসা দেন। সহস্রাধিক মানুষকে বিনামূল্যে ওষুধ, চশমা ও ১০৫ জনকে লেন্স সংযোজন করানো হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খড়িয়া মুক্তি সংঘের অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শেখ আবুল হাসেমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এ্যাবা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিল্লুর রহমান মৃধা রিপন। সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন জনির সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহজাহান মোড়ল, সমাজ সেবক নাছিমূল গণি (নাছির) প্রমুখ।