লাদেন কি মোল্লা ওমরের বন্ধু ছিলেন?

আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন, একটা সময় বিশ্বে তার লুকানোর মতো কোনো জায়গা ছিল না। সেই দুঃসময়ে লাদেনকে আফগানিস্তানে আশ্রয় দিয়েছিলেন তালেবান প্রধান মোল্লা ওমর।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে ১৯৯৬ সালে সুদান যখন ওসামা বিন লাদেনকে সেই দেশ ছাড়তে বলে, তখন আফগানিস্তানে চলে যাওয়া ছাড়া তার কাছে আর অন্য কোনও উপায় ছিল না। পরবর্তীতে আফগানিস্তানে বসেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ হত্যার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

৯/১১ হামলার পরে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানকে বলেছিল ওসামা বিন লাদেনকে যেন তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু মোল্লা ওমরের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পায়নি তারা। এরপর যুক্তরাষ্ট্র তোরাবোরাতে বোমা হামলা চালায়।

যদিও ওসামা বিন লাদেনের ছেলে অন্য দাবি করেছেন। ওসামার ছেলে ওমর বিন লাদেন তার বই ‘গ্রোয়িং আপ বিন লাদেন’- এ লিখেছেন, ‘আফগানিস্তান যাওয়ার পথে আমাদের বিমান যখন সৌদি আরবের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল, তখন বাবার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছিল। ভয় ছিল যে আমাদের বিমানকে রকেট দিয়ে আঘাত করে ধ্বংস না করে দেওয়া হয়।’

তিনি জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালে ওসামা বিন লাদেনের বিমান যখন জালালাবাদে অবতরণ করে, তখন তাকে স্বাগত জানানোর জন্য মোল্লা ওমর উপস্থিত ছিলেন না।

বাবা ওসামা বিন লাদেন এবং মোল্লা ওমরের সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন তথ্য জানিয়েছেন পুত্র ওমর বিন লাদেন। তার দাবি, মোল্লা ওমরের আহ্বানে তার বাবা আফগানিস্তান যাননি।

তিনি লিখেছেন, ‘এটা খুবই ভুল ধারণা যে মোল্লা ওমরের আমন্ত্রণে ওসামা আফগানিস্তানে এসেছিলেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ারের লোকজন।’

প্রাথমিকভাবে আফগান সম্রাট জাহির শাহের এক প্রাসাদে তাকে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর ওসামা তোরা-বোরা পাহাড়ের একটা গুহায় বাস করতে যান। এই 'কথিত' বন্ধুত্বের (মোল্লা ওমর এবং ওসামা বিন লাদেনের) কোনো স্মৃতি আমার নেই।