নদী দখল করে মায়ের নামে কলেজ নির্মাণ সাবেক মন্ত্রীর

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলার মুশুদ্দি রেজিয়া কলেজ স্থাপিত হয় ২০১৫  সালে। এ সময় কলেজের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ধনবাড়ি উপজেলার এক মাত্র নদী বৈরান। যে নদীর সাথে জড়িত ধনবাড়ি উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষি কাজ। মুশুদ্দি গ্রামে বৈরান নদী দখল, নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় ২০০ একর নদী দখল করে মায়ের রেজিয়ার নামে "মুশুদ্দি রেজিয়া কলেজ" নির্মাণ করেন ড. আব্দুর রাজ্জাক। 

নদী দখল মুক্ত করতে মুশুদ্দি গ্রামের মোহাম্মদ মাহাবুব এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত আকারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক বরাবর ও প্রধানমন্ত্রীর ডিজি এডমিন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান পাননি। 

মোহাম্মদ মাহাবুব বলেন, ড. রাজ্জাক মানেই ধনবাড়ি মধুপুর তথা টাঙ্গাইলের অঘোষিত রাজা ছিলেন। টাঙ্গাইল ও তার সংসদীয় আসন ধনবাড়ি-মধুপুরের কোনো নেতাকর্মী তার কথার বাহিরে গেলেই হুমকি ধামকি ও মামলা দিত। তার নিজ দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে তিনি। আমাদের মুশুদ্দি গ্রামের বৈরান নদীটি ছিলে একটি সুন্দর প্রবাহিত নদী। তার মায়ের নামে কলেজ করে নদীটি দখল করে রেখেছে। বৈরান নদী ঝোপনা গ্রামের ত্রিমোহনা হয়ে মুশুদ্দি সানদার বাড়ি, কামারপাড়া,কসাই বাড়ি, হাদিরা হয়ে গোপালপুর প্রবাহিত হয়েছিলে। নদীতে বাঁধ দিয়ে দখল করার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে কাইলাচড়াবন্ধ, ফুলবাড়ি বন্ধ, চাটকি বিল, সুতারিপুড়ি বিল, কাহিলাপুড়ি বিল কয়ড়া হয়ে হাইক্কা বিলে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। 

মাহাবুব আরও বলেন, পানি প্রবাহ বন্ধ থাকার কারণে মুশুদ্দি কামাড়পাড়া, বাইন্দাপাড়া,গোনাভাতকুড়া, ভাতকুড়া,ফুলবাড়ি, কয়ড়া,আটাপাড়া, চরপাড়া, চরধলি ও খাসপাড়া এলাকায় প্রায় ২০ হাজারের অধিক কৃষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী দখলের মত হীন কাজটি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান সাবেক কৃষি মন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাকের আপন ভাই আবু কায়ছার ও মন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে। আমরা এলাকাবাসী মৌজা মুশুদ্দি মতুন নদী ঝোপনা থেকে দরিচন্দ্র বাড়ি বাঁধ দেওয়া প্রায় অর্ধ কিলোমিটার নদী উদ্ধার করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনার জন্য দাবি জানাচ্ছি। 

এ দিকে রাজ্জাকের ভাই মুশুদ্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু কায়ছার বলিভদ্র এলাকায় শত শত একর কৃষি জমি দখল করে কল কারখানা করার জন্য মাটি ভরাট করে দখলে নেয়।

স্থানীয় কৃষকরা বলেন, কায়ছার চেয়ারম্যান সাধারণ এলাকাবাসীর কাছ থেকে জমি কিনার করার কথা বলে জমি নিয়ে আর টাকা দেয়নি।

বলিভদ্র গ্রামের মতি মন্ডল বলেন, আমার কৃষি জমি দখল করেছে কায়ছার চেয়ারম্যান, তার ভাইয়ের প্রভাব বিস্তার করে তিনি দখল করেছেন। আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। 

মোস্তফা নামে অপর এক কৃষক বলেন, আমার সংসার চালাই কৃষি কাজ করে আর সেই কৃষি জমি কায়ছার চেয়ারম্যান দখল করে নিয়ে নিছে। আমরা তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেছি কিন্তু তার ভাই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মন্ত্রী ছিলে যার কারণে তাদের ক্ষমতার সামনে আমরা কিছুই না। আমাকে টাকা দিতে চেয়েছিলে কিন্তু আজও পর্যন্ত একটা টাকাও দেয়নি।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমান বলেন, আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখবো কী অবস্থা। তারপর আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

ড. আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রী ছিলেন।