পাকিস্তানে শিয়া-সুন্নি সংঘাত: ওষুধের অভাবে মারা যাচ্ছে শিশুরা

পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত। সেখানে সংখ্যাগুরু সুন্নিরা। এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাচীন বিবাদ আজও চলমান। বিশেষ করে দেশের উত্তর-পশ্চিমের অঞ্চলগুলোতে প্রায়ই শিয়াদের উপরে হামলা চলে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের প্যারাচিনার শহরে বিষয়টি মারাত্মক আকার ধারন করেছে।

পারাচিনারের স্থানীয়রা বলছেন, গত মাসে শহরের ভেতরে ও বাইরে যাওয়ার প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ হওয়ার পর থেকে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ওষুধের অভাবে মারা যাচ্ছে শিশুরা। খবর রেডিও ফ্রি ইউরোপের।

প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার শহর পারাচিনারের একজন উপজাতীয় নেতা মুনাওয়ার হুসেন বলেন, আমরা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে বসবাস করছি। খাদ্য ও ওষুধের অভাবে আমাদের শিশুরা মারা যাচ্ছে।

একজন ডাক্তার এবং একজন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এখানে ওষুধের অভাবে কয়েক ডজন শিশু মারা গেছে। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে কর্তৃপক্ষ।

এই বছর কুররাম জেলার প্রধান শহর পারাচিনারে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক নিহত ও আহত হয়েছে। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুররাম জেলার প্রশাসনিক সদর দফতর পারাচিনারের বাসিন্দারা ৭ নভেম্বর রাস্তাগুলো আবার চালু করার দাবি জানায়।

এছাড়া গত নভেম্বরে পাকিস্তানের বাকি অংশের সাথে কুররামকে সংযোগকারী প্রধান সড়কে একের পর এক অতর্কিত হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহত হয়। সহিংসতার কারণে রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যায়, যা প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রদায়ের সশস্ত্র লোকদের দ্বারা পরিচালিত হয়। কর্তৃপক্ষ সুন্নি ও শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা করেছে কিন্তু শত্রুতার অবসান ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সরকারের মুখপাত্র মুহাম্মাদ আলী সাইফ বলেছেন, সরকার এসব মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত করছে। তবে এটুকু আশ্বস্ত করতে চাই যে ওষুধের অভাবের কারণে এটি ঘটেনি। ওই এলাকায় এসব শিশুদের  মৃত্যু নিয়মিত ছিল।

এ বিষয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষকে পারাচিনারে ওষুধ পাঠানোর জন্য "অবিলম্বে পদক্ষেপ" নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।