আজানের জবাব দেওয়ার ফজিলত

নির্দিষ্ট কয়েকটি বাক্য উচ্চারণের মাধ্যমে নামাজের দিকে আহ্বান করাই হলো আজান। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য মুয়াজ্জিন এ আহ্বান করে থাকেন। এটি ইসলামি জীবন পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ইসলামের অন্যতম প্রতীক। আর নামাজের জন্য আহ্বান করার কারণে ইসলাম মুয়াজ্জিনকে সম্মানের আসনে সমাসীন করেছে। হাদিসে মুয়াজ্জিনের প্রতি গুরুত্বরোপ করে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘কেয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনের গলা সর্বাধিক লম্বা হবে। অর্থাৎ মুয়াজ্জিন হাশরের মাঠে বেশি সম্মানিত হবেন।’ (সহিহ বুখারি) মুয়াজ্জিনের সওয়াব সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আজান দেয়, যত দূর তার আওয়াজ পৌঁছে, তত দূরের সমস্ত জিনিস তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।’ (তিরমিজি)

আজানের বাক্য মোট ১৫টি। ফজরের আজানে অতিরিক্ত বলা হয় ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’। অর্থাৎ ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম। এটি দুবার বলা হয়। যার ফলে ফজরের আজানে বাক্যের সংখ্যা হয় ১৭টি। আজান দেওয়ার বিধান হলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা। আজান দেওয়া হয় মূলত নামাজের প্রতি আহ্বানের জন্য, মুসলিমদের নামাজের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য, ইসলামের নিদর্শন, প্রচার-প্রসারের জন্য এবং সময়মতো নামাজের আদায়ের তাগিদ দেওয়ার জন্য। আজান দেওয়ার ফলে শয়তান দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান পালিয়ে যায় এবং সে এত দূরে চলে যায় যে, আজানের শব্দ আর শুনতে পায় না। (সহিহ মুসলিম)

আজানের জবাব দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য। যখন আজান দেওয়া হয়, তখন মুসলমানদের তা শ্রবণ করা এবং আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ অনুসারে জবাব দেওয়া মুস্তাহাব। আজানের জবাব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন আজান শোনো, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তোমরাও তা বলো।’ (সহিহ মুসলিম) এর মাধ্যমে বোঝা যায়, আজানে যে ১৫টি বাক্য উচ্চারণ করা হয় তারই পুনারাবৃত্তি করতে হবে, তবে কিছু অংশে পরিবর্তন রয়েছে। এ সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন মুয়াজ্জিন আজান দেয় তখন তোমরাও ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বলবে। (সহিহ মুসলিম) পরিবর্তন ঘটবে শুধু ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’-এর জবাবে। তখন বলতে হবে, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’। তবে অনুরূপ বলারও সুযোগ রয়েছে।

আজানের এ জবাব দেওয়ার ফলে মুসলমানদের গুনাহ ক্ষমা করার কথাও বলা হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, মুয়াজ্জিনের সঙ্গে সঙ্গে যে ব্যক্তি আজানের শব্দের পুনরাবৃত্তি করে, তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সাহিহ মুসলিম) আজানের জবাবে অনুরূপ বলা ছাড়াও বিশেষ কিছু দোয়ার কথাও উল্লেখ আছে। যা আদায়ের মাধ্যমে রাসুল (সা.)-এর শাফায়াত লাভের পাশাপাশি জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আজান শুনে এই দোয়া বলবে, ‘আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কায়িমাহ, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাদিলা, ওয়াদ দারজাতার রফিআহ, ওয়াব-আছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযি ওয়াআদতাহ। ওয়ারজুকনা শাফাআতাহু ইয়াওমাল কিয়ামাহ, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিআদ।’

অর্থ : হে আল্লাহ! এই পরিপূর্ণ আহ্বানের ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠিত নামাজের আপনিই প্রভু। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ওসিলা ও সুমহান মর্যাদা দান করুন এবং তাকে ওই প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন। আর কেয়ামতের দিন তার সুপারিশ আমাদের নসিব করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না। (সহিহ বুখারি)

হাদিসের অন্যান্য বর্ণনা থেকেও জানা যায়, যে ব্যক্তি মনোযোগ সহকারে আজানের বাক্যগুলোর জবাব দেবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আজানের পর দোয়া পড়লে গুনাহ মাফ করা হয়, দোয়া কবুল করা হয়, কেয়ামতের দিন শাফায়াত পাওয়া যায় এবং ইবাদতের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ আমাদের আজানের জাবাব ও দোয়া পড়ার তওফিক দান করুন।