মাদারীপুরের কালকিনিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইউপি সদস্য আক্তার শিকদার ও তার ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কয়েকজন।
আজ শুক্রবার সকাল কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে।
নিহত আক্তার শিকদার মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তার ছেলে মারুফ সিকদার ও একই এলাকার রশিদ চৌকিদারের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৫)। সিরাজ ইউপি সদস্যের সমর্থক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনির বাঁশগাড়ি ইউপি সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান সুমনের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আক্তার শিকদারের বিরোধ চলছিল। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পর এলাকা ছাড়েন আক্তার। অবস্থা বুঝে চার মাসেরও বেশি সময়ের পর
আক্তার এলাকায় ফিরে আজ সকালে দুই শতাধিক লোক নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালান। এতে ফকির বংশের লোকজন একত্রিত হয়ে পাল্টা হামলা করলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় আক্তার শিকদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সংঘর্ষে আহত হন আক্তার শিকদারের ছেলে মারুফসহ অন্তত ১৫ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারুফ ও সিরাজের মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) হুমায়ুন কবীর।
বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আক্তার মেম্বারের (ইউপি সদস্য) নামে ৩৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি হত্যা মামলা। সরকার পতনের পর এলাকা থেকে চলে যান তিনি। শুক্রবার আবার নতুন করে দলবল নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। মধ্যেরচর এলাকার লোকজন তাদের প্রতিরোধ করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। বোমা বিস্ফোরণে আক্তার, তার ছেলে ও এক সমর্থকের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছি। এ ঘটনায় আরও অনেকেই আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাই।
এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিপক্ষের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম, বললেন ঘটনা সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী কাজ করছে।