প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি যেন সোনার হরিণ। এক কর্মস্থলেই কেটে যাচ্ছে অনেকের জীবন। কাক্সিক্ষত কর্মস্থলে বদলি হতে না পেরে স্বামী-সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাচ্ছেন বহু নারীশিক্ষক। সফটওয়্যারের দোহাই দিয়ে বছরের পর বছর বন্ধ রয়েছে বদলি। কয়েক দফা চালু হলেও নানা শর্তে আর দালালদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিতে পেরে বদলিতে ব্যর্থ হাজারো শিক্ষক। যদিওবা কোনো কোনো শিক্ষক আবার রাতারাতি ‘জনস্বার্থ’র আদেশে বদলি হয়ে মাঠ কার্যালয়ে হাজিরে অবাক হন শিক্ষা কর্মকর্তারা। ‘জনস্বার্থের’ নামে এই গোপন বদলিতে কর্মস্থলভেদে ১৫ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
ঘুষ দিয়ে কর্মস্থল বদল করে কেউ সন্তানকে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াতে শহরে যাচ্ছেন, অন্যদিকে আবার কেউবা চাহিদা অনুযায়ী ঘুষের টাকা না দিতে পারায় বছরের পর বছর শিক্ষা কর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও স্বামী-সন্তানের পাশে থাকতে কাক্সিক্ষত কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। অবশ্য শুধু টাকাতেই নয়, কারও কারও আবার ‘মামার জোরে’ (প্রভাবশালী স্বজনের তদবির) মিলছে ‘জনস্বার্থে’ বদলির এই সোনার হরিণ।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বিত অনলাইন বদলি নীতিমালায় বলা আছে, জানুয়ারি-মার্চ মাসের মধ্যে অনলাইনে নির্দিষ্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে একই উপজেলা, আন্তঃউপজেলা, আন্তঃজেলা, আন্তঃবিভাগ বদলি করা যাবে। তবে আচরণবিধি লঙ্ঘন বা শৃঙ্খলাজনিত কারণে বদলির পাশাপাশি অপরিহার্যতা বিবেচনায় সারা বছর জনস্বার্থে/প্রশাসনিক কারণে বদলি করা যাবে। এ ছাড়া কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দেখা দিলে পাশের বিদ্যালয় থেকে ডেপুটেশনের মাধ্যমে শিক্ষক দেওয়া হয়। বিভাগের বাইরে সচিব আর বিভাগের মধ্যে বদলির ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদন লাগবে। আর ‘জনস্বার্থে’ বদলির এই নীতিমালাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে বদলি বাণিজ্যের বিশাল এক চক্র।
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার মধ্যে ‘জনস্বার্থে’ বদলি হতে চাইলে দিতে হয় ২০ হাজার টাকা আর জেলার মধ্যে ৫০ হাজার এবং বিভাগ বদলাতে লাখ টাকার মতো ঘুষ দিতে হয়। যার যত সমস্যা, তাকে ঘুষের টাকা গুনতে হয় তত বেশি। চাহিদা অনুযায়ী টাকা এবং গোপনীয়তার নিশ্চয়তা পেলেই আদেশ অনুমোদন হয়ে থাকে।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জনস্বার্থে বদলি হতে বিশ্বাস ও ধৈর্য দরকার হয়। আমাদের নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি আছে মাঠ প্রশাসনে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত টিইও (থানা শিক্ষা কর্মকর্তা), এটিইও (সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা) এবং শিক্ষকের মাধ্যমে আসতে হয়। প্রথমে বর্তমান কর্মস্থল এবং বদলি-ইচ্ছুক কর্মস্থলের তথ্যসহ আবেদন নেওয়া হয় হাতে হাতে। এরপর দফারফা হলেই সুযোগ বুঝে আদেশ জারি হয়। আর কিছু কিছু বদলি হয় উচ্চপর্যায়ের সুপারিশে।’
২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত মাত্র দেড় বছরে জনস্বার্থের নামে এমন আদেশে অন্তত ৪২৫ জন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকের শিক্ষকদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে বদলি নিয়ে ঘুষবাণিজ্যের আলাপনের স্কিনশর্ট দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে। সেখানে একজন শিক্ষক লিখেছেন, ‘৩ লাখ টাকা হলে মন্ত্রী দিয়ে বিভাগ বদলি করা যাবে, টাকা পরে দিলেও হবে।’ আস্থা অর্জন করতে সঙ্গে কয়েকটি বদলির আদেশের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়।
জনস্বার্থের নামে বদলি-বাণিজ্যের বিষয়ে বরিশালের একজন শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘গত মার্চ মাসে আমাকে অধিদপ্তর থেকে ফোন করে একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক না দেওয়ার জন্য বলা হয় এবং কয়েক দিন পর অধিদপ্তর থেকে একজন শিক্ষক জনস্বার্থে বদলির আদেশ নিয়ে আসেন। পরে শুনেছি ওই শিক্ষকের এজন্য ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বদলি বন্ধ থাকার পরও এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কিংবা এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় অনেক শিক্ষক যোগ দিতে আসেন। যদিও আমাদের মাধ্যমে করা হয়নি আবেদনগুলো। অনেকেই বলেছেন অতীতে হাতে হাতে আবেদন করা ছিল।’
জনস্বার্থের নামে বদলির এমন আদেশ হলেও প্রকৃতপক্ষে কার স্বার্থ দেখা হয়েছে, তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় বলে জানিয়েছেন খুলনা বিভাগের বেশ কয়েকজন শিক্ষা কর্মকর্তা।
ভুক্তভোগী বহু শিক্ষকের একজন রাজশাহীর পবা উপজেলার চরখিদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রিয়াজুল শেখ। তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি থেকে বর্তমান কর্মস্থল ১৪ কিলোমিটার দূরে দুর্গম চর এলাকায়। সাত বছর ধরে কাছের বিদ্যালয়ের শূন্য পদে আসার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাকে সেই শূন্যপদে না দিয়ে সম্প্রতি বাইরে থেকে জনস্বার্থের নামে একজন বদলি হয়ে আসায় সেটিও পূরণ হয়েছে। শূন্যপদ পূরণ হয়ে যাওয়ায় বাড়ির কাছে আসার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।’
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলার অভ্যন্তরে অনলাইন বদলির আবেদন গ্রহণ করা হয়। ৫ ধাপে বদলির মধ্যে ২ হাজার ৪৮ জন সহকারী শিক্ষক এবং ২৩৭ জন প্রধান শিক্ষক আন্তঃউপজেলা বদলির আদেশ পান। আন্তঃজেলা বদলিতে ১৩৮ জন প্রধান শিক্ষক ও ১ হাজার ৬২৩ জন সহকারী শিক্ষক বদলি হন। আন্তঃবিভাগ ৮১ জন প্রধান শিক্ষক ও ১ হাজার ২৩২ জন সহকারী শিক্ষক বদলি হন। সিটির বাইরে থেকে সিটির ভেতরে বদলির আদেশ পান ১৫১ জন প্রধান শিক্ষক ও ৪৭০ জন সহকারী শিক্ষক।
নওগাঁর মান্দা উপজেলার একরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. আফরোজা খাতুনকে রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জনস্বার্থে বদলি করা হয়।
সম্প্রতি বগুড়ার কাহালু উপজেলার অঘোর মালঞ্চা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মোছা. তাসমিয়া তানজিদকে রাজশাহীর পবা উপজেলার মাসকাটাদীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষক খাদিজা বেগম চৌধুরী রুমি সদর উপজেলার হোসেন বখত ও ফরিদা বখত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘জনস্বার্থে’ বদলি হয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর থেকে সদরেরই আরেকটি পছন্দের বিদ্যালয়ে গেছেন তৃপ্তি রায়। গত ৫, ৬, ২৬ ও ২৮ নভেম্বর-২৪ তারিখে সহকারী পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) স্বাক্ষরিত বদলির আদেশে এই চার শিক্ষকই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।
বদলি হয়ে আসা শিক্ষক আফরোজা খাতুনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে অন্য কেউ রিসিভ করেন। নম্বরটি আফরোজার স্বীকার করলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে আর কথা না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন অন্য প্রান্তের ব্যক্তি।
পবার মাসকাটাদীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাসমিয়া তানজিদ ‘জনস্বার্থে’ আদেশের বদলি নিয়ে ওই স্কুলে যোগ দিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তার যোগদানপত্র গ্রহণ করেছেন প্রধান শিক্ষক। বদলি হয়ে আসা তাসমিয়া তানজিদের দুই সন্তানের রাজশাহীতে অধ্যয়নরত থাকার কথা শুনেছেন বলেও জানান।
জনস্বার্থের নামে এমন বদলির আদেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক নেতা মু. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জনস্বার্থে বদলি হলো ব্যক্তিগত স্বার্থে বদলি। প্রশাসন ক্যাডারে যার যত ক্ষমতা, তার আত্মীয়স্বজনের বদলি তত দ্রুত হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিষয় কিংবা প্রাথমিক শিক্ষকদের জনস্বার্থে তেমন কোনো কাজ আছে বলে মনে হয় না। নিজ নিজ উপজেলায় অনেক শিক্ষকই বদলির চেষ্টা করছেন অথচ বাইরে থেকে শিক্ষক দিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের সমস্যার সম্মুখীন করা হচ্ছে।’
রাজশাহীর পবা উপজেলার মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. রাশিদা খাতুন বর্তমানে বড়গাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে রয়েছেন। তিনি বর্তমান কর্মস্থলে বদলি হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু গত ৪ ডিসেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সরাসরি বদলির আদেশ নিয়ে নওগাঁর মান্দা উপজেলা থেকে বড়গাছি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক যোগ দেন। শিক্ষক রাশিদার দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাইরের শিক্ষক ১০ শতাংশের বেশি হওয়ায় বাইরের আর কোনো শিক্ষক এই উপজেলায় বদলির আবেদন করতে পারেননি। কিন্তু তারপরও বহিরাগত শিক্ষক সেখানে বদলি হয়ে এসেছেন। তিনি এই বদলির আদেশ বাতিল করে তাকে বড়গাছি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি ও অপারেশন পরিচালক বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।
শত চেষ্টা করেও বাবার পরিবারের সঙ্গে থাকার জন্য কাক্সিক্ষত কর্মস্থলে বদলি হতে পারছেন না সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামীহারা রাজশাহীরই গোদাগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদা খাতুন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আমি এখন বাবার বাড়ির এলাকায় বদলি হতে চাই। কিন্তু বাইরে থেকে শিক্ষক এই উপজেলায় নিয়োগ পাওয়ায় তিনটি শূন্য পদের দুটিই পূরণ হয়ে গেছে। আদৌ পিতার ঠিকানায় আসতে পারব কি না জানি না।’
রাজশাহীর পবা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জোবাইদা রওশন জাহান বলেন, ‘আমার উপজেলায় সহকারী শিক্ষকের তিনটি পদ শূন্য ছিল। এর মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের আদেশ মোতাবেক আমার উপজেলায় দুজন সহকারী শিক্ষক যোগদান করেছেন। এখন একটি পদ শূন্য রয়েছে। আদেশ ই-মেইলে পেয়েছি।’
শূন্য পদের তথ্য বা তাদের পদায়নের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ কোনো তথ্য চেয়েছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শূন্যপদের তথ্য জেলায় দেওয়া হয়, এ ক্ষেত্রে আলাদাভাবে কোনো তথ্য চায়নি কেউ।’
বিশেষ সুবিধা দিয়ে নীতিমালা ভেঙে বদলি হওয়ার অভিযোগ তোলেন রাজশাহী জেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি পবায় দুজন শিক্ষক এসেছেন অন্য জেলা থেকে। এ ধরনের বদলির তদন্ত দাবি জানাই। বদলি হয়ে আসা কোনো শিক্ষকের ঠিকানা পবাতে না হলেও তারা বিশেষ সুবিধা দিয়ে বদলি হয়েছেন। অন্যদিকে নীতিমালা অনুযায়ী পবাতে আসার যোগ্য শিক্ষকও মাসের পর মাস বদলি হতে পারছেন না।’
এই শিক্ষক নেতা আরও বলেন, ‘পবা উপজেলায় এভাবে শিক্ষক যদি তাদের ঠিকানা ছাড়া প্রবেশ করেন, তাহলে পবা উপজেলার ছেলেমেয়েরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হবেন এবং নিজ উপজেলার শিক্ষকরাও তাদের সুবিধামতো বদলি হতে পারবেন না। যেখানে উপজেলা পর্যায়ে ১০ শতাংশের বেশি বাইরে থেকে শিক্ষক বদলি হয়ে আসতে পারেন না, সেখানে ৩৭ শতাংশ এর আগে বাইরে থেকে পবা উপজেলায় শিক্ষক এসেছেন। এ ধরনের বদলি কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাশাপাশি জনস্বার্থ নামক দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বদলির পেছনে থাকা কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করার দাবি জানাই।’
‘জনস্বার্থে’র আদেশে বদলি হয়ে মৌলভীবাজারের বশিরপুর রেজি. বে. প্রা. বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অপরুপা ভট্টাচার্য্য সিলেট সদরের মুক্তিরচর স. প্রা. বিদ্যালয়ে গেছেন। রংপুরের পীরগাছা উপজেলা থেকে সহকারী শিক্ষক মোছা. জাকিয়া সুলতানা গেছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগন্নাথপুর স. প্রা. বিদ্যালয়ে। আরেক শিক্ষককে খাগড়াছড়ি থেকে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এর একটি বদলি আদেশেরও অনুলিপি দেওয়া হয়নি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ওয়েব পোর্টালে।
‘জনস্বার্থে’র আদেশে বদলির নামে ঘুষবাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল হাকিমের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক আরও কয়েকবার কল করা হলে তিনি আর রিসিভ করেননি। পরে কল করার কারণ জানিয়ে কিছু প্রশ্ন করে আব্দুল হাকিমের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
পরে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়েরে সচিব ফরিদ আহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, অনলাইন নীতিমালা মেনেই সব শিক্ষকের বদলি হয়ে থাকে। অবশ্য নীতিমালাবহির্ভূত কোনো বদলি হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।