দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাসক্ষেত্র থেকে সিএনজি (কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস) আকারে দৈনিক আরও ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আনতে চায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন পিএলসি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন পাঁচ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এনে ঢাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় সরবরাহ করছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরে ইন্ট্রাকোর পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার চাইলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বেড়ে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট হবে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় গ্রিডে বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি গ্যাস সরবরাহ করা হলে আগের চেয়ে দাম কিছুটা কম পড়বে।
ইন্ট্রাকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াদ আলী বলেন, ‘গ্যাসসংকটের পরও পাইপলাইনের অভাবে ভোলার গ্যাস পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না। সেজন্য ওই গ্যাস সিএনজিতে রূপান্তরিত করে বিশেষ পরিবহনের মাধ্যমে এনে ঢাকা এবং আশপাশের কারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে।’
ইন্ট্রাকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ আলী বলেন, ‘বর্তমানে প্রতি ইউনিট গ্যাস বিক্রি করে প্রায় পাঁচ টাকা লোকসান হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে এই লোকসান আর থাকবে না। সরকার চাইলে আগামী জুন নাগাদ ভোলার গ্যাস সরবরাহ করতে পারব বলে আশা করছি।’
দরপত্রের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস মূল ভূখ-ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এ প্রসঙ্গে রিয়াদ আলী বলেন, ‘আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সরকার যেভাবে চায়, সেভাবেই আমরা কাজ করতে চাই। যত বেশি প্রতিষ্ঠান আসবে, তত বেশি প্রতিযোগিতা বাড়বে।’
ইন্ট্রাকোর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ভোলা থেকে সিএনজিতে রূপান্তরিত করে সমুদ্রপথে এবং পরবর্তী সড়কপথে ওই গ্যাস এনে বিভিন্ন কারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমরা একটি বড় ক্যাসকেড ট্রাক ট্রেইলার (বিশেষ পরিবহন) ব্যবহার করছি।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ইন্ট্রাকোর মহাব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) কমান্ডার (অব.) আবু সাইদ, চিফ অপারেটিং অফিসার এহসানুল হক পাটোয়ারী, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (কারিগরি) মোমিন মোল্লাহ প্রমুখ।