হিলিতে দুদিন ধরে সূর্যের দেখা নেই, বিপর্যস্ত জনজীবন

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে আগের দিনের তুলনায় তাপমাত্রা আরো কিছুটা কমেছে। গতদুদিন ধরে সুর্যের দেখা মিলছে না। গতকালের মত আজ মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই আকাশ কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে এতে করে বাড়তি শীত অনুভূত হচ্ছে। শীতের কারণে কাজে যেতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন।

হিলিতে বেশ কিছুদিন ধরেই শীত অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই দিনে কুয়াশার মাত্রা কিছুটা কম থাকলেও রাত থেকে শুরু করে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ঝড়ছিল। কিন্তু গতকাল থেকে দিনের বেলাতেও কুয়াশা ঝড়ছে তবে মাত্রা কিছুটা কম হলেও রাত থেকে শুরু করে সকাল পর্যন্ত ঘনকুয়াশা ঝড়ছে। সেই সাথে হিমেল বাতাস শীতের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। খেটে খাওয়া মানুষজন পেটের তাগিদে বাহির হলেও কাজ না পেয়ে যেমন বিপাকে পড়েছেন তেমনি আক্রান্ত হচ্ছেন শীতজনিত নানা রোগে। সড়কে মানুষের চলাচল কমায় আয় কমে বিপাকে পড়েছেন ভ্যান রিক্সা চালকরা। কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। 

নৈশপ্রহরি ইয়াসির আহমেদ বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরেই ঠান্ডা পড়েছে কিন্তু গতকাল থেকে ঠান্ডার মাত্রাটা অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। রাতে বৃষ্টির মত কুয়াশা পড়ছে সেই সাথে বাতাস বইছে যার কারণে খুব ঠান্ডা পড়ছে। আমরা তো রাত্রে নৈশপ্রহরির কাজ করি এই শীতের কারণে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বরসর্দী কাশিসহ বিভিন্ন সমস্যা তো লেগেই আছে। 

ইজিবাইক চালক মুক্তার হোসেন বলেন, গতকাল থেকে যেমন কুয়াশার পরিমাণ বেড়েছে তেমনি শীতের মাত্রা বেড়েছে। ইজিবাইক চালাচ্ছি কুয়াশার কারণে কোনোকিছু ঠিকমত দেখা যাচ্ছে না। কুয়াশা এমন পড়ছে যে ৫ হাত দূরের কোনো কিছু দেখা যাচ্ছে না যার কারণে ইজিবাইক চালাতে খুব সমস্যা হচ্ছে। সেই সাথে প্রচন্ড ঠান্ডা লাগছে দুই তিনটা গরম কাপড় পড়েও ঠান্ডা কাটছে না এমন অবস্থা। পেটের তাগিদে এর মধ্যেও বাহির হয়ে ইজিবাইক চালাচ্ছি কিন্তু সড়কে মানুষজন নেই যার কারণে আয় রোজগার আগের মত হচ্ছে না।

শ্রমজীবি নারী নাজমা বেগম বলেন, গত কয়েকদিন ঠান্ডার মাত্রা কিছুটা কম থাকলেও গতকাল থেকে বেশ ঠান্ডা পড়েছে। গতকাল থেকে সুর্যের দেখা মিলছে না সারাদিন কুয়াশা ঝড়ছে যার কারণে প্রচন্ড ঠান্ডা লাগছে। ঠান্ডার কারণে আমাদের চলাফেরা করতে সমস্যা হচ্ছে গা হাত পা জ্বালা যন্ত্রনা করছে। আমরা তো গরীব মানুষ অন্যের বাড়িতে কাজ করে খাই যার কারণে যত কষ্টই হোক বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে। এ ছাড়াতো আমাদের কোনো উপায় নেই।

আবহাওয়া অধিদপ্তর দিনাজপুর এর ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গত দুদিন ধরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লে গতকাল থেকে তাপমাত্রা আবারো কমতে শুরু করেছে। গতকালকের চেয়ে আজ তাপমাত্রা আরো খানিকটা কমেছে। আজ সকাল ৯ টায় দিনাজপুর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যেখানে গতকাল দিনাজপুর জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আজ সকাল ৬টায় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৪ ভাগ,বাতাসের গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩ কিলোমিটার।