কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়কেন্দ্রিক সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের আস্তানা থেকে অপহৃত বনকর্মীসহ ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদার পশ্চিমের গহিন পাহাড় থেকে স্থানীয় জনতা, বনবিভাগের সহায়তায় পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন। যারা সোমবার সকালে পাহাড়ে গাছের চারা রোপণ করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। ওই সময় ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে র্যাব। তবে সোমবার রাত ও গতকাল ভোরে অপহৃত অন্য ৯ জনকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে টেকনাফ বনবিভাগের টেকনাফের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বলেন, সোমবার সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া পাহাড়ে বনবিভাগের জমিতে গাছের চারা রোপণ করতে গিয়ে বনকর্মীসহ ১৮ জনকে অপহরণ করা হয়। রাতে মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ফোন দিচ্ছে বলে জেনেছি। পরে গতকাল বিকেলে জনতার সহায়তায় অপহৃত সেই ১৮ শ্রমিককে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, উদ্ধার হওয়াদের পাহাড় থেকে বের করা হচ্ছে। তাদের থানায় আনা হলে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সোমবার রাতে ও গতকাল সকালে অপহৃত ৯ জনকে উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে টেকনাফের শামলাপুর সিএনজি অটোরিকশার লাইনম্যান মো. আবদুর রহিম বলেন, সকাল ৮টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কে দুটি অটোরিকশা থামিয়ে চালকসহ আটজনকে অপহরণ করে সশস্ত্র একদল অপহরণকারীরা। খবর পেয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে অপহৃতদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।
বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শোভন কুমার শাহা জানিয়েছেন, হোয়াইক্যং-শামলাপুর সড়কে দুটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে চালকসহ যাত্রী অপহরণের ঘটনা শুনে অভিযান চালানো হচ্ছে। কতজন অপহরণ হলেন সেটার সঠিক তথ্য এখনো জানা যায়নি। সিএনজি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বড় ডেইল এলাকার বাসিন্দার নাজিম উদ্দিন মাস্টারের ছেলে জসিমউদ্দিনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহারছড়ার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম।