মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ১৬ একর জমি রক্ষার দাবি

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ১৬ একর জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি। একইসঙ্গে জাতীয় গৃহায়ণে জমা দেওয়া ৩০০ জনের তালিকা যাচাই-বাছাই করে পূর্ণবাসন করার দাবিও জানিয়েছে।

বুধবার (১ জানুয়ারি) সেগুনবাগিচায় ক্র্যাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এসব দাবি জানান সমিতির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বেলায়েত হোসেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নেয়। ওই সমিতির কথিত মহাসচিব মোর্শেদুল আলম জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে একটি দরখাস্ত করেন মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনের জন্য। দরখাস্তের আলোকে জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সমিতির কাছে জানতে চেয়ে একটি পত্র দেয়। তাতে বলা হয়, আপনার সমিতির মধ্যে কতজন মুক্তিযোদ্ধা ও কি পরিমাণ জমির প্রয়োজন? একটি হলফনামাসহ ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে জমা দিতে আদেশ করেন। এরপর ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর ৩০০ জন মুক্তিযোদ্ধার নামে তালিকার হলফনামাসহ জাতীয় গৃহায়ণ কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

৩০০ জন মুক্তিযোদ্ধার নামে তালিকা জমা হওয়ার পর জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৬.৩১ একর জমি বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বরাদ্দপত্র সমিতির নামে না দিয়ে সমিতির মহাসচিব মোর্শেদুল আলম নামে বরাদ্দ হয়। এতে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ জানাই। কিন্তু সমিতির মহাসচিব আমাদের উপর বিভিন্ন হুমকি, ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। ওই বরাদ্দপত্র নিয়ে সমিতির মধ্যে গোলযোগ দেখা দিলে পুনরায় বরাদ্দপত্র সমিতির নামে সংশোধন হয়।

কিন্তু স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ শাসন আমলে স্বৈরাচারের মন্ত্রী শেখ সেলিম, আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আ ক ম মোজাম্মেল হক, এডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক পিএসসির চেয়ারম্যান এটি আহমাদুল হক চৌধুরী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও নুর মোহাম্মদ, সাবেক সচিব মিজানুর রহমান, মাহবুবুল আলম খান, হেদায়েতুল ইসলাম, আবু আলম শহিদ খান এবং অমুক্তিযোদ্ধা মোর্শেদুল আলম গং সম্মিলিতভাবে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতি ১৫ডি/১/২ প্রাতিষ্ঠানিক প্লট (যা বর্তমান বিজয় রাকিন সিটি নামে পরিচিত) কাফরুল মিরপুরের অধিনে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে ১৬ একর জমির ওপর অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করেছে। সেসব ভবনের ফ্ল্যাট অমুক্তিযোদ্ধারদের কাছে বিক্রি করে হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

সংবাদ সম্মেলন আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার কল্যাণ সমিতির সদস্য আব্দুর সাত্তার, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।