সবাইকে বই দিতে না পেরে দুঃখ প্রকাশ শিক্ষা উপদেষ্টার

বই সংকট নিয়েই রাজধানীসহ সারা দেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা সব বিষয়ের নতুন বই পায়নি। এ নিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নতুন বছরের প্রথম দিনে দেশের সব শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিতে না পেরে আমরা আন্তরিক দুঃখিত। প্রথম দিন থেকে প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই ও মাধ্যমিকের তিনটি আবশ্যিক বই বিতরণ করা হয়েছে। বাকি বইগুলো খুব শিগগিরই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’ 

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিনামূল্যের পাঠ্যবই প্রকাশ করতে অনেক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়েছে।

সব শ্রেণির পরিমার্জিত বইয়ের পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের অনলাইন ভার্সন উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজন করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর এ বি এম রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার শিক্ষাবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. এম আমিনুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, এসসিটিবি চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান প্রমুখ।

গতকাল থেকে সারা দেশে নতুন শিক্ষাবর্ষের বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ শুরু হয়েছে। এ জন্য গত কয়েকদিন ধরেই স্কুলগুলোতে বই পাঠানো হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সুশৃঙ্খলভাবে বই বিতরণ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রথম দিন থেকে প্রাথমিকের সব পাঠ্যবই ও মাধ্যমিকের তিনটি আবশ্যিক বই বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও অবসর সুবিধা দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আইবাস ডাবল প্লাস সফটওয়্যারে ইলেকট্রনিক্স ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রমও উদ্বোধন করা হয়।

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে এবার ১২ বছর আগের শিক্ষাক্রমে ফিরছে প্রাথমিক-মাধ্যমিকের শিক্ষাব্যবস্থা। পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফলে নতুন বছরে ছাপা মোট বইয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ১৬ লাখ, বাড়ছে ছাপার বাজেটও।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান জানান, পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জনের ক্ষেত্রে বিতর্কিত, ভ্রান্ত ও অতিরঞ্জিত কনটেন্ট বাদ দেওয়া, সঠিক ইতিহাস সংযোজন, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নতুন গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, রচনা, ছবি বা কনটেন্ট সংযোজন এবং বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা সংশ্লিষ্ট রচনা-বিষয়বস্তু হিসেবে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা বিষয়ে আমরা তোমাদের ভুলব না, শহীদদের নিয়ে লেখা, ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বিষয়ে কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও গ্রাফিতির ভাষা, সপ্তম শ্রেণির বাংলা বিষয়ে স্থান পেয়েছে সিঁথি (কবিতা), অষ্টম শ্রেণির বাংলা বিষয়ে গণ-অভ্যুত্থানের কথা এবং নবম শ্রেণির ইংরেজিতে গ্রাফিতি, বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলনে গ্রাফিতির ব্যবহার সংযোজন করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের ব্যাক কভারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতি সংযোজন করা হয়েছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বই বিতরণ : ফাউন্ডেশনের ৭৪ হাজার ১০টি শিক্ষাকেন্দ্রে বই বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের ৭৩ হাজার এবং দারুল আরকাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন ও পরিচালনা প্রকল্পের ১ হাজার ১০টি কেন্দ্র রয়েছে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই তথ্য জানিয়েছে।