৯ দিন আগে বাবা খোকা বেপারী মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে ১৩ বছরের কিশোর হুসাইন বেপারীকে নতুন একটি অটোরিকশা কিনে দেন আত্মীয়-স্বজনরা। আর সেই রিকশাটিই কাল হলো হুসাইনের জন্য।
আজ শুক্রবার ভোরে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় হুসাইনের মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। নতুন রিকশাটি ছিনতাই করতে নির্মমভাবে খুন করা হয় তাকে।
নিহত কিশোর হুসাইন বেপারী শহরের চর টেপাখোলা বেপারী পাড়ার মৃত খোকা বেপারীর ছেলে। তার মায়ের নাম শেফালী বেগম।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অটোরিকশা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় হুসাইন। রাতে বাড়ি না ফেরায় স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে মাইকিং শুরু করে। আজ ভোরে শহরের ভাটি লক্ষীপুর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসার পাশে মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।
হুসাইনের চাচাতো ভাই ওবায়দুর রহমান জানান, তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল হুসাইন। বড় তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। নয়দিন আগে হুসাইনের বাবা মারা যায়। ফলে সংসার চালানোর মতো উপার্জন কেউ না থাকায় হুসাইনকে একটি নতুন অটোরিকশা কিনে দেওয়া হয়। সে রিকশা চালিয়ে যা আয় করতো তা দিয়ে মাকে নিয়ে চলতো। দুবৃর্ত্তরা রিকশাটি ছিনতাই করতে গিয়ে হুসাইনকে গলায় রশি পেচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশটি ফেলে রেখে যায়। হুসাইনকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সনাতন জানান, ‘মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। যারা এ খুনের সঙ্গে জড়িত তাদের ধরতে উদ্ধার অভিযান চলছে।’