এক বছর আগের এই সময়। ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল যেন এক গল্পের রচনা করেছিল। দুবাইয়ের রৌদ্রোজ্জ্বল প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকে ফিরে এসে যেভাবে প্রিমিয়ার লিগে ঝড় তুলেছিল, তা সত্যিই ছিল দৃষ্টিনন্দন। ১৮ ম্যাচে মাত্র পাঁচ পয়েন্ট হারিয়ে শুরু করেছিল নতুন বছরের অভিযাত্রা। তবে ম্যানচেস্টার সিটির অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা তাদের শিরোপা ছোঁয়ার স্বপ্ন অধরা রেখেছিল।
এবার গল্পটা ভিন্ন। ২০২৫ সালের শুরুতেই ব্রেন্টফোর্ডকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেও আর্সেনালের সামনে চ্যালেঞ্জের পাহাড়। লিভারপুল ছয় পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে, হাতে একটি ম্যাচও বেশি। আর জানুয়ারি মাসে নয়টি ম্যাচ খেলতে হবে মিকেল আর্তেতার শিষ্যদের। সময় সংকুচিত, তবে প্রতিশ্রুতি বিশাল।
বিগত মৌসুমে যখন আর্সেনালের তারকারা প্রায় পুরো মৌসুম সুস্থ ছিলেন, এবার যেন সবকিছু উল্টে গেছে। নরওয়ের হয়ে খেলার সময় মার্টিন ওডেগার্ডের গুরুতর চোট, বুকায়ো সাকার হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ে দুই মাসের জন্য মাঠের বাইরে, আর গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি ও ওলেক্সান্ডার জিনচেঙ্কোর মতো খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক বিরতি থেকে চোট নিয়ে ফেরত আসা—এসব মিলে দলে তৈরি হয়েছে সংকট।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আর্সেনাল ভুগেছে ১৬টি চোটে, যা প্রিমিয়ার লিগে পঞ্চম সর্বোচ্চ। মিস হয়েছে ৪০৬ দিনের খেলা। এই পরিসংখ্যান দলটির গভীরতার অভাব আরও প্রকট করেছে।
অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ইথান এনওয়ারিরি আর্সেনালের এক ঝলক আলোর মতো। মাত্র ১৭ বছর বয়সে সাকার জায়গায় খেলতে নেমে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করে দেখিয়েছেন, কেন আর্তেতা তাকে দলে ভরসা রাখছেন। আবার মাইলস লুইস-স্কেলি, যিনি বাম ডিফেন্ডার হিসেবে দলে জায়গা করে নিয়েছেন, তিনিও তারুণ্যের স্পর্শে ভরিয়ে দিচ্ছেন আর্সেনালের সংকুচিত বেঞ্চ।
কিন্তু বাস্তবতা কঠিন। চোটগ্রস্ত দল নিয়ে আর কতটা টানা চাপ সামলাতে পারবেন আর্তেতা? লিগ, কারাবাও কাপ, এফএ কাপ—প্রতিযোগিতার চাপ কম নয়।
‘আমরা যদি সবচেয়ে দুর্বল স্কোয়াড হয়, তাহলে কী প্রয়োজন?’—আর্তেতার এই প্রশ্ন যেন সংকটেও তার নির্ভীক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। আর্সেনালের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা নতুন খেলোয়াড় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তবে আর্তেতা স্পষ্টভাবে বুঝিয়েছেন, দলে থাকা প্রতিটি খেলোয়াড়কে তাদের সর্বোচ্চটা দিতে হবে।
আসন্ন টটেনহাম ও অ্যাস্টন ভিলার মতো বড় ম্যাচ, লিভারপুলকে ধরার তাগিদ, আর সঙ্গে চোটে বিধ্বস্ত দল—এ সব মিলিয়ে আর্সেনালের জানুয়ারির গল্প যেন এক মহাকাব্যিক সংগ্রামের। এখন দেখার বিষয়, এই সংগ্রামে তারা কত দূর যেতে পারে। শিরোপার স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে। তবে বাস্তবতার কঠিন হাতছানি সামলে লড়াই করে যেতে হবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।