রিশাভ, ‘কখনও কখনও আপনাকে আরও বিচক্ষণ ক্রিকেট খেলতে হয়’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে রিশাভ পান্তের ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা চলছে। মাঠে তার ঝুঁকিপূর্ণ শট নির্বাচন বারবার ভারতীয় দলের চাপ বাড়াচ্ছে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই। তার সর্বশেষ ইনিংসগুলোর স্কোর যথাক্রমে ৩৭, ১, ২১, ২৮, ৯, ২৮ ও ৩০—যা তার নামের সঙ্গে বেমানান। দলের বাইরে ও ভেতরে একই অভিযোগ উঠে এসেছে, পান্ত নিজের স্বাভাবিক আগ্রাসী খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।

তবে সিডনিতে, তিনি দেখিয়েছেন ভিন্ন কিছু। উইকেটের বাউন্স আর সিম মুভমেন্টের বিরুদ্ধে তিনি রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। ৯৮ বল খেলে মাত্র চারটি বাউন্ডারি মেরেছেন। সিডনি টেস্টে লাঞ্চের ঠিক আগে ভারত যখন ৫৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসে, পান্ত ক্রিজে আসেন এবং টিকে থেকে দলের ভিত মজবুত করেন। লাঞ্চ থেকে চা বিরতি পর্যন্ত তার রক্ষণাত্মক ব্যাটিং ভারতকে ৫০ ওভারে ১০৭/৪-এ পৌঁছে দেয়। 

ইনিংসের পর পান্ত ব্যাখ্যা করেন, ‘উইকেটের আচরণ দেখে আমি আগ্রাসী খেলায় যেতে চাইনি। পরিস্থিতি যেমন ছিল, তাতে রক্ষণামূলক খেলা ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। খেলায় কখন আক্রমণ করতে হবে তা অনুভব করতে হয়। আমি কোনো সিদ্ধান্ত আগে থেকেই নেই না। ম্যাচ যা দাবি করে, সেটাই করার চেষ্টা করি।’ 

পান্ত আরও বলেন, ‘শুরুটা কঠিন, কারণ বল যখন মারার সুযোগ দেয় তখনও সংযত থাকতে হয়। সিডনির পিচে জানতাম, এক উইকেট পড়লে দ্রুত আরও ২-৩ উইকেট পড়তে পারে। তাই রক্ষণাত্মক খেলাই ঠিক মনে হয়েছে। তবে আমি আমার প্রাকৃতিক খেলা পুরোপুরি ত্যাগ করতে চাই না। খেলায় ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছি—আক্রমণ আর রক্ষণ, দুইটাই প্রয়োজন।’ 

মেলবোর্ন টেস্টে পরাজয়ের পর ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দলীয় স্বার্থে খেলার গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন। অধিনায়ক রোহিত শর্মা চারদিন আগে পান্তকে নিজের খেলার ধাঁচ এবং দলের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে বের করতে বলেছিলেন। 

রোহিতের অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব দেওয়া জাসপ্রিত বুমরাহও পন্থকে উৎসাহিত করেছেন। পান্তের মতে, ‘বুমরা সবসময় ইতিবাচক মানসিকতার কথা বলেন এবং প্রতিদিন খেলা এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন। একজন অধিনায়ক থেকে এটাই প্রত্যাশা।’ 

সিডনি টেস্টে ডিআরএস বিতর্কও ভারতীয় শিবিরে হতাশা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন সুন্দরকে আউট দেওয়ার সময় স্নিকোর সামান্য স্পাইকই আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্য যথেষ্ট মনে করেন। পান্ত মনে করেন, ‘প্রযুক্তি উন্নত হওয়া উচিত। তবে মাঠের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে হবে, যদি না খুব স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।’