অঞ্জনা রহমান

১৩ ভাষায় অভিনয়, নায়িকা ছিলেন মিঠুন-নাদিমের

সত্তর থেকে নব্বই দশক— ঢালিউডের স্বর্ণালী সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জনা রহমান। নায়িকা হিসেবে বহু সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন অঞ্জনা। শুধু বাংলাদেশই নয়, ৯টি দেশের ১৩টি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

১৯৬৫ সালের ২৭ জুন ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন অঞ্জনা। ছোটবেলা থেকে নৃত্যের প্রতি আগ্রহ ছিল। তাই বাবা-মা তাকে ভারতে নৃত্য শেখার জন্য পাঠান। সেখানে তিনি ওস্তাদ বাবুরাজ হীরালালের অধীনে নাচের তালিম নেন এবং কত্থক শিখেন। নৃত্যে তিনবার জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন অঞ্জনা। একবার এশিয়া মহাদেশীয় নৃত্য প্রতিযোগিতায় প্রথম হন।

অঞ্জনার অভিনয় জীবন শুরু হয় ১৯৭৬ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ সিনেমা দিয়ে। তবে তার অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত ‘দস্যু বনহুর’ (১৯৭৬)। এরপর থেকে সাফল্যের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করেন। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, তুরস্ক, থাইল্যান্ড ও শ্রীলংকার সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

তার অভিনীত বাংলা সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘অশিক্ষিত’, ‘জিঞ্জীর’, ‘আশার প্রদীপ’, ‘আশার আলো’, ‘আনারকলি’, ‘সুখে থাকো’, ‘সানাই’, ‘বৌ কথা কও’, ‘অভিযান’, ‘রাম রহিম জন’, ‘রূপালি সৈকতে’, ‘মোহনা’, ‘পরিণীতা’ ইত্যাদি।

এক সময়ের শীর্ষ সব অভিনেতার সঙ্গেই কাজ করেছেন অঞ্জনা। তাদের মধ্যে আছেন- রাজ্জাক, আলমগীর, জসিম, বুলবুল আহমেদ, জাফর ইকবাল, ওয়াসিম, উজ্জ্বল, ফারুক, ইলিয়াস জাভেদ, ইলিয়াস কাঞ্চন, সোহেল চৌধুরী, রুবেল, সুব্রত বড়ুয়া, মান্না প্রমুখ। এছাড়া মিঠুন চক্রবর্তী (ভারত), ফয়সাল (পাকিস্তান), নাদিম বেগ (পাকিস্তান) জাভেদ শেখ (পাকিস্তান), ইসমাইল শাহ (পাকিস্তান), শীবশ্রেষ্ঠ (নেপাল) ও  ভূবন কেসির সঙ্গে অভিনয় করেছেন।

১৯৮১ সালে ‘গাংচিল’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন অঞ্জনা। এরপর ১৯৮৬ সালে ‘পরিণীতা’ সিনেমায় ললিতা চরিত্রে অভিনয় করে পুরস্কার পান। এছাড়া তিনি ‘পরিণীতা’, ‘মোহনা’ ও ‘রাম রহিম জন’ সিনেমার জন্য তিনবার বাচসাস পুরস্কার পেয়েছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি অঞ্জনা চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন। তার প্রযোজিত চলচ্চিত্রগুলো হলো ‘নেপালী মেয়ে’, ‘হিম্মতওয়ালী’, ‘দেশ বিদেশ’, ‘বাপের বেটস’, ‘রঙিন প্রাণ সজনী’, ‘শ্বশুরবাড়ি’, ‘লাল সর্দার’, ‘রাজা রানী বাদশা’, ‘ডান্ডা মেরে ঠান্ডা’, ‘বন্ধু যখন শত্রু’ ইত্যাদি।