জনগণকেও পুলিশের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে: মাসুদ করিম

পুলিশ যেন জনগণের আস্থাভাজন হতে পারে, সেজন্য আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মো. মাসুদ করিম।

আজ শনিবার ডিএমপির উত্তরখান থানা ভবনে ছাত্র-জনতা ও নাগরিকদের সমন্বয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। সেক্ষেত্রে জনগণকেও পুলিশের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে। কারণ যে পুলিশকে আপনারা মনে প্রাণে ধারণ করেন-আমরা তেমন পুলিশ হওয়ার জন্য কাজ করছি। দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে যা যা করা প্রয়োজন তার সব কিছুই আমরা করছি।

তিনি আরও বলেন, থানা হলো পুলিশি সেবার মূল জায়গা যেখান থেকে  আপনারা আইনানুগ সেবা পেয়ে থাকেন। তাই থানাকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কার্যকর করে গড়ে তুলতে আমরা বিশেষ মনোযোগ দিয়েছি। থানার কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তার দেখভাল করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।

জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করাই পুলিশের কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই থানা আপনাদেরই, আগামীকাল হয়তো এখনকার পুলিশ বদলি হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আমাদের যে কার্যক্রম তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য আপনাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণ সমাজ সবসময়ের মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের কণ্ঠ ধরে রাখবে বলে আশা করছি।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ফলে আমরা ন্যায্য কাজ করার স্বাধীনতা পেয়েছি। এক্ষেত্রে ঐক্য ধরে রেখে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। মাদক, চাঁদাবাজিসহ সকল ধরনের অপরাধের তথ্য আমাদের সরবরাহ করে সহযোগিতা করুন।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছাত্র-জনতা ও উত্তরখান থানা এলাকার নাগরিকরা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের কাছে তাদের বিভিন্ন মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।

সভায় উপস্থিত ফজলে রাব্বী বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন সেক্টরে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটছে, তার প্রমাণ আজকের এই অনুষ্ঠান। এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আমরা স্বাধীনভাবে আমাদের মত প্রকাশ করতে পারছি, সমস্যার কথা সরাসরি প্রশাসনকে জানাতে পারছি। মাদক সমস্যা সমূলে উৎপাটন করতে পুলিশ ও জনগণকে পরিপূরক হয়ে কাজ করতে হবে।

উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার রওনক জাহানের সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় উত্তরা বিভাগের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতারা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এবং ছাত্র আন্দোলনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।