ভর্তিতে ইচ্ছেমতো টাকা আদায়

রংপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইচ্ছেমতো নেওয়া হচ্ছে ভর্তি ফি। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তদারকি করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের দেখে সাধারণ প্রতিষ্ঠানগুলোও শুরু করেছে একই কাজ। জেলার কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বর্ডার গার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবং লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে বাড়তি ফি আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। অবশ্য এসব প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

অভিভাবকরা জানিয়েছেন, ভর্তির সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা করছে না। প্রাক-প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যায়ে ভর্তি ফি বাবদ ৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা করে আদায় হচ্ছে।

জেলার কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রতিবছর প্রাথমিক থেকে কলেজ পর্যায় পর্যন্ত ভর্তি হয় প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী। এবারও ওই রকম ভর্তি হচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠান থেকে জানা যায়। এসব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গড়ে ৬ হাজার টাকা করে আদায় করলেও প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি বছর ভর্তির সময় প্রায় দুই কোটি টাকা আদায় হয়। জেলার পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার ৭৫০ টাকা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ১১ হাজার ৭৫০ টাকা প্রতিবছর ভর্তির সময়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে স্টাফ ও পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের জন্য ৩৫ থেকে ৪০ পার্সেন্ট ছাড় রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী ৬ হাজার ২০০ জন। এতে গড়ে ১০ হাজার টাকা করে ভর্তি ধরা হলে ৬ কোটি ২০ লাখ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরের শুরুতে এককালীন নেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. কে. এম জালাল উদ্দীন আকবর বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময়ে যে টাকা নেওয়া হয় তা দিয়ে কলেজের উন্নয়ন করা হয়।

লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেজি শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২০০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ১২০০। ভর্তির সময়ে কেজি শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত এককালীন নেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার টাকা এবং কলেজ পর্যায়ে নেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা। সেই অনুযায়ী প্রাইমারি ও মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তিতে আদায় করা হয় ৬৬ লাখ এবং কলেজ পর্যায়ে ৬ লাখ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. এনামুল বলেন, শিক্ষার্থীদের টাকায় প্রতিষ্ঠানটি চলে। 

ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানা যায়নি। তবে তাদের ভর্তির সময়ে এককালীন ফি নেওয়ার তালিকা পাওয়া গেছে। তাতে দেখা গেছে, বেসামরিক শিক্ষার্থীদের জন্য বছরের শুরুতেই প্লে, নার্সারি ও কেজি শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ১০ হাজার এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ফি ৮ হাজার টাকাসহ মোট ১৮ হাজার টাকা। এছাড়াও প্রতি বছর বাৎসরিক ফি ১২ হাজার ৪৭০ টাকা নেওয়া হয়। অন্যান্য শ্রেণিতে আরও বেশি ভর্তি ও উন্নয়ন ফি আদায় করা হচ্ছে।

রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, রংপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালার বাইরে টাকা নিচ্ছে, এমন অভিযোগ বিভিন্নভাবে পাচ্ছি। এসব নিয়ে দু’একদিনের মধ্যে জেলা শিক্ষা কমিটির মিটিং রয়েছে। সেই মিটিংয়ে এসব বিষয় নিয়ে কথা হবে।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল মোবাইল ফোনে বলেন, কেউ নীতিমালার বাইরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করলে বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।