ফরিদপুরের মধুখালীতে সাংবাদিক সৌগত বসুর গ্রামের বাড়িতে বাবা-মাসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ডুমাইন গ্রামের পূর্বপাড়া বোস বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে প্রতিবেশীরা খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে আসে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন, সাংবাদিক সৌগত বসুর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামলেন্দু বসু (৬৫), মা কাকুলী বসু (৬০) ও প্রতিবেশী কিশোরী প্রীতি মালো (১৫)। তারা সবাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সাংবাদিক সৌগত বসু দৈনিক আজকের পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে ঢাকায় কমর্রত রয়েছেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক অর্ণব জানান, শ্যামলেন্দু বসুর মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। তার মাথার হাড় ভেঙে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসায় ঢাকায় নেওয়ার জন্য পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অন্যদের আঘাত গুরুতর নয়।
আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাতে তারা টিভি দেখছিলেন। এসময় ঘরের ভেতর একজন দুর্বৃত্তকে দেখতে পায়। তাকে ধাওয়া দিলে বাড়ির দোতলায় সে অবস্থান নেয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্যামলেন্দু বসুর মাথায় কোপ দেয়। পরে অন্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায় ওই দুর্বৃত্ত।
সৌগতের কাকিমা শুক্লা বসু বলেন, ‘আমরা ফরিদপুর শহরে থাকি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওনারা আমাকে ভিডিও কল দিয়ে বাঁচানোর আকুতি জানায়। পরে আমি প্রতিবেশীদের জানালে তারা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’
সাংবাদিক সৌগত বসু বলেন, বাড়িতে আমার বাবা-মা ছাড়া কেউ থাকে না এবং আমার অসুস্থ মাকে দেখাশোনা করত প্রীতি। তারা এখন গুরুতর অসুস্থ, পুরো ঘটনা এখনো বলা যাচ্ছে না। একজন নাকি একাধিক লোক ছিল তা বলা যাচ্ছে না। তবে আমাদের কারও সঙ্গে ঝামেলাও নেই।
ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার জীবন কুমার ম-ল জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা চুরি কিংবা ডাকাতির উদ্দেশে শ্যামলেন্দু দাদার বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়িতে শ্যামল দা তার স্ত্রী ও তাদের দেখাশোনার জন্য প্রীতি মালো নামের এক কিশোরী থাকেন। তাছাড়া বাড়িতে কেউ থাকেন না। তার তিন ছেলে বিভিন্ন জেলায় চাকরি করেন। তিনি বলেন, রাতে হঠাৎ তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে শ্যামলেন্দু দা ও তার স্ত্রীকে কোপানো হয়েছে এবং কাজের মেয়েটিকে স্টিলের স্টিক দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাত করা হয়েছে। তারা এসময় অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শৈলেন চাকমা বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে চুরি করতে গিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে। ১৪-১৫ বছর এক কিশোর ওই বাড়িতে অবস্থান নেয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে গৃহকর্তা ধাওয়া দিলে তাকে এবং অন্যদের সোল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।