রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসবে সরকার

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রকাশের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, ‘জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে শিগগিরই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে খসড়া প্রস্তুত করা হবে। ঘোষণাপত্র তৈরিতে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে। আশা করি, সবার প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকবে।’

গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আনার ব্যাপারে শফিকুল আলম বলেন, ‘দেশে চোরতন্ত্র, গুমতন্ত্র জারি করেছিল, সেগুলোর জন্য এবং তিনি যে গুম ও খুন করেছেন, সেজন্য তাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে অন্তর্র্বর্তী সরকার। আমরা না পারলে পরবর্তী সরকার, পরবর্তী প্রজন্ম চেষ্টা করবে। এটা জাতির আকাক্সক্ষা, জাতির দায়।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে তাকে বিচারের আওতায় আনা এ সরকারের টম প্রায়োরিটি (সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার)। এই জায়গায় আমরা এক ইঞ্চিও পিছপা হব না। হাসিনার আমলের পাপাচারের শেষ নেই। আয়নাঘর বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, সাঈদীর ফাঁসির রায়-পরবর্তী হত্যাকাণ্ডসহ অসংখ্য গুম ও খুন। সেই সঙ্গে রাতের ভোট, প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচারসহ অসংখ্য অপরাধ করেছেন হাসিনা। তাকে আমরা বিচারের আওতায় আনব।’

প্রেসসচিব আরও বলেন, হাসিনা তার বাবার খুনিদের যেভাবে ‘পারসু’ করে বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরিয়ে এনেছিল, তাকেও তার চেয়ে বেশি পারসু করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করা হবে। এই সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। কারণ পৃথিবীর কোনো দেশ খুনিকে তেমন একটা জায়গা দিতে চায় না। ভারতীয় গণমাধ্যম আগে হাসিনার অপরাধগুলো সেভাবে জানত না। এখন তারা অনেক কিছু জেনেছে। সেজন্য তাদের মিডিয়া সংবাদ প্রচার করছে। পুরো পৃথিবী যখন তার অনাচার, অপরাধ সম্পর্কে জানবে, তখন একটা চাপ তৈরি হবে।’

এ ছাড়া শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার বিষয়ে চিঠির কোনো উত্তর এখনো ভারত দেয়নি বলে জানান তিনি।

বিগত আওয়ামী সরকারের আমলের টর্চার সেল হিসেবে পরিচয় পাওয়া ‘আয়নাঘর’ সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শনের জন্য গণমাধ্যমকে সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হয় ব্রিফিংয়ে।

শফিকুল আলম বলেন, ‘আয়নাঘরে’ গণমাধ্যমকর্মীদের পরিদর্শনের সুযোগ করে দেওয়া হবে। সেখানে গেলে আপনারা (গণমাধ্যমকর্মীরা) দেখতে পাবেন কীভাবে বিগত সরকার নিরীহ মানুষকে দিনের পর দিন আটকে রেখে অত্যাচার করেছে। বন্দিদের অনেকেই সেখানে (আয়নাঘরে) দিনের পর দিন আটকে থাকার কথা বন্দিশালায় লিখে রেখেছেন।

বিটিভি এবং বাসস (বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা), ‘আগের মতো সরকারি বৃত্তে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের জন্য বিব্রতকর এমন কোনো সংবাদ বিটিভি-বাসস প্রচার করে না। এই দুটি প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসসচিব বলেন, পুরো পৃথিবীতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম থাকে। নিউজ এজেন্সি থাকে, এটা ভাইটাল একটা কাজ। স্টেট (রাষ্ট্রায়ত্ত) ব্রডকাস্টের মেইন প্রোগ্রামিং টিভি থাকে, নিউজ টিভি থাকে, ইংলিশ চ্যানেলের টিভি থাকে। আপনি যদি তুরস্কের দিকে দেখেন, রাশিয়ার দিকে দেখেন, ইন্ডিয়ার দিকে দেখেন, পাকিস্তানের দিকে দেখেন, ইন্দোনেশিয়ার দিকে দেখেন, চায়নার দিকে দেখেন এরা সবাই স্টেট ব্রডকাস্টকে বড় করছে। স্টেট ব্রডকাস্টের আলাদা একটা প্রয়োজনীয়তা আছে।’

৩১ ডিসেম্বর বিটিভি নিউজ লঞ্চিং (চালু) হয়েছে জানিয়ে প্রেসসচিব বলেন, ‘যদিও পরীক্ষামূলকভাবে, আমাদের ইচ্ছা আছে এটাকে বড় করার। আমরা আশা করি বিটিভি এবং বাসস তাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে ভালো ভালো প্রোগ্রাম এবং নিউজ প্রেজেন্ট (উপস্থাপন) করতে পারবে। আমরা আশা করব, জুলাই “স্প্রিটকে” ধারণ করে তারা সংবাদ প্রচার করবে। তাদের ইকুইপমেন্টের (যন্ত্রপাতি) অভাব, সেই জায়গাও তারা বিষয়গুলো দেখবে। বিটিভিসহ সবাইকে আমাদের স্বাধীনতা দেওয়া আছে। সবাই বাংলাদেশের রুলস অনুযায়ী প্রেস ফ্রিডম ব্যবহার করতে পারবেন।’

সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য নভেম্বর মাসে একটা টাস্কফোর্স করা হয়েছিল। নতুন করে ২৫-৩০ জনের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি। অনেক কাজ করছে পিবিআই। আশা করছি, পিবিআই ভালো কিছু করতে পারবে, ওনারা প্রচুর শ্রম দিচ্ছেন।

ভারতীয় ভিসা বন্ধ থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় যেতে বিকল্প কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেসসচিব বলেন, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, কাজাখস্তানের ভিসা নয়াদিল্লি বাদে বিকল্প কয়েকটি দেশ থেকে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে দেশগুলো। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের অনুরোধ করেছিলেন।