এক সময় যে আদালতে সরকারি আইনজীবী ছিলেন সেই আদালতেই আসামি হয়ে ফিরলেন জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। চাঁদাবাজি, জমি দখলের অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা মামলায় সোমবার (৬ জানুয়ারি) সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুকে আদালতে হাজির করা হয়। টুকুর আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে করাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত ।
আদালত সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে পাবনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের ১ নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুস্তাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন। এর আগে কড়া নিরাপত্তায় শামসুল হক টুকুকে পাবনা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, টুকুর নিজ নির্বাচনী এলাকা বেড়ার বৃশালিখার মির্জা আ. হামিদের ছেলে মির্জা মেহেদী বাদী হয়ে গত ৬ নভেম্বর পাবনার ৩ নং আমলী আদালতে টুকু, তার ভাই আ. বাতেন ও ছেলে আসিফ শামস রঞ্জনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৬ মে সাবেক ডেপুটি স্পিকার টুকুর নির্দেশে বাদীপক্ষের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসামিরা। চাঁদা না দেয়ায় বৃশালিখা ঘাটের জমিসহ ২০ টি দোকান ও ৫০ টি গোডাউন জোরপূর্বক দখল করে নেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী নাজমুল হক শাহীন ও আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন বেলায়েত আলী বিল্লু, শাহ আলম, তৌহিদ হাসনায়েন প্রমুখ।
জামিন নামঞ্জুর করায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী বেলায়েত আলী বিল্লু অসন্তোষ জানিয়ে বলেন, মামলায় যে দিনে দখল বা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে, সেদিন সাবেক ডেপুটি স্পিকার সেনাবাহিনীর হেফাজতে ছিলেন। অর্থাৎ এটি মিথ্যা মামলা। এ বিষয়ে আমরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জামিন চেয়েছিলাম। কিন্ত আদালত সেটি নামঞ্জুর করেছেন। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।