কে হতে পারেন কানাডার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণে অবশেষে কানাডার প্রধানমন্ত্রীত্ব এবং নিজ দল লিবারেল পার্টির প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জাস্টিন ট্রুডো। দীর্ঘ ৯ বছরের প্রধানমন্ত্রীত্বের অবসান ঘটিয়ে গতকাল সোমবার (৬ জানুয়ারি) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। 

তবে নতুন লিবারেল নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত নেতৃত্বে থাকার কথাও জানিয়েছেন ট্রুডো। খবর বিবিসি।

তবে জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের পর লিবারের দল ও কানাডার জন্য অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। দলের কে দায়িত্ব নেবে এবং কীভাবে তারা আসন্ন ফেডারেল নির্বাচন পরিচালনা করবে? সবচেয়ে বড় বিষয় কানাডার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?

লিবারের নেতা কে হচ্ছেন?

ট্রুডোর পদত্যাগের পরপরই দলের নতুন প্রধান বেছে নেবে তাঁর দল লিবারেল পার্টি। সোমবার, ট্রুডো জানিয়েছিলেন যে একটি "শক্তিশালী, দেশব্যাপী, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার" মাধ্যমে নতুন লিবারেল নেতা নির্বাচন করা হবে।

এছাড়া লিবারেল পার্টির সভাপতি সচিৎ মেহরা জানিয়েছেন যে, দ্রুতই নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য দলটি এই সপ্তাহে তার জাতীয় বোর্ডের সভা আহ্বান করবে।

বিবিসি জানিয়েছে যে, ট্রুডোর কোনো নির্দিস্ট উত্তরসূরি না নেই তবে আলোচনায় রয়েছেন দলের বেশ কয়েকজন। দলের পরবর্তী সভাপতি হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন কানাডার সাবেক অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, পরিবহন মন্ত্রী অনিতা আনন্দ, মেলানী জোলি, কেন্দ্রীয়  ব্যাংকার মার্ক কার্নি ও ফ্রাঙ্কোইস-ফিলিপি চ্যাম্পাগনি।

এদের মধ্যে কানাডার পরিবহন মন্ত্রী অনিতা আনন্দ ভারতীয় বংশোদ্ভূত। অনিতা কানাডার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত। তিনি প্রতিরক্ষা ও ট্রেজারি বোর্ডের সভাপতি। ২০১৯ সালে ওকভিলের এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরে দ্রুতই ট্রুডোর মন্ত্রিসভায় যুক্ত হন অনিতা।

২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত পাবলিক সার্ভিসেস অ্যান্ড প্রকিউমেন্ট মন্ত্রী ছিলেন অনিতা আনন্দ। এরপর যান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এরপর এ বছর তিনি পরিবহণ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন।

এছাড়া মেলানী জোলি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। ৪৫ বছর বয়সী এই আইনজীবী অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করেছেন। আরেক নারী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ট্রুডোর বেশ ঘনিষ্ঠি হিসেবে পরিচিত। তিনি মন্ত্রিপরিষদের সবচেয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী। গত ডিসেম্বরে ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ৫৬ বছর বয়সী এই অর্থমন্ত্রীরও সমালোচনা হচ্ছে।

এর বাইরে মার্ক কার্নি ট্রুডোর বিশেষ উপদেষ্টা ছিলেন। কানাডা ও ইংল্যান্ডের ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। আর ফ্রাঙ্কোইস-ফিলিপি চ্যাম্পাগনি বতর্মানে উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও শিল্প মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন।

কে হতে পারেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী?

ট্রুডোর পদত্যাগের ঘোষণার কারণে লিবারেল দলের নেতার পদের পাশাপাশি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর পদও খালি হতে যাচ্ছে। আর তাই ব্যাপক জল্পনা কল্পনা দেখা দিয়েছে কে হতে পারেন কানাডার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।

সাধারণত অক্টোবরের মধ্যে কানাডায় পরবর্তী ফেডারেল নির্বাচন হতে হবে, তবে সম্ভবত তার আগে আগাম ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হতে পারে লিবারেলরা। আর কানাডার প্রধানমন্ত্রীর হওয়ার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন দেশটির কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়েরে পোইলিভরে।

জনমত জরিপের ইঙ্গিত অনুযায়ী, কানাডার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য খুব সম্ভাবনা রয়েছে পিয়েরের।

২০২২ সালে কনজারভেটিভ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পিয়েরে জাস্টিন ট্রুডোর একজন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। পিয়েরে নিজেকে অভিজাত বিরোধী এবং ট্রুডো বিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করেছেন।