সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দোদুলের ছোট ভাই ও মেহেরপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সরফরাজ হোসেন মৃদুলকে দেড় কোটি টাকার চেক জালিয়াতি ও সন্ত্রাস দমন আইনের আরও একটি মামলায় আত্মসর্মপণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে তিনি আদালতে আত্মসর্মপণ করে জামিন আবেদন করে। পরে মেহেরপুর জুড়িশিয়াল আদালতের বিচারক জুয়েল রানা তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানা যায়, সাবেক মন্ত্রীর ভাই মৃদুলের ব্যবসায়িক পার্টনার দেবাশীষ বাগচীর দায়ের করা দেড় কোটি টাকার চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেন। তিনি ৫ আগস্ট পর থেকে পলাতক ছিলেন। আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি হয়। পরে আসামির অনুপস্থিতিতে মামলার কার্যক্রম শুরু হলে আদালতে মঙ্গলবার ওই মামলায় যুক্তিতর্কের দিন ছিল। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে সাবেক মন্ত্রীর ভাই আদালতে হাজিরা দিতে যান এবং জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত চেক জালিয়াতি মামলায় তাকে জামিন দেন। পরে আদালত থেকে বের হলে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দায়েরকৃত সন্ত্রাস দমন আইনে মামলায় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সাবেক মন্ত্রীর ভাইয়ের পক্ষে জামিন শুনানিতে আওয়ামী লীগ পন্থী আইনজীবীরা অংশ নেন। অন্যদিকে জামিনের বিরোধীতা করে শুনানিতে অংশ নেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। আদালতে উপস্থিত মৃদুলের ব্যবসায়িক পার্টনার দেবাশীষ বাগচী বিচারকের আদেশ শুনে খুশি হয়ে বলেন, আমি এই দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। কারণ আমার সারাজীবনের অর্জিত অর্থ মৃদুল সাবেক মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে আত্মসাৎ করে আমাকে পথে বসিয়েছে।
একইদিনে জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভগ্নিপতি পিরোজপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাসের পক্ষে আইনজীবীরা চাঁদাবাজি ও হত্যা চেষ্টা ধারার দুইটি মামলায় জামিন প্রার্থনা করেন। মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঞ্জুরুল ইমাম ওই দুইটি মামলায় সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রীর ভগ্নিপতি বাবলু বিশ্বাসের জামিন নামঞ্জুর করেছেন।