প্রযুক্তিগত উন্নতির জন্য ২০২৫ হচ্ছে একটি আশাজাগানিয়া বছর। অনেক ক্ষেত্রেই পৃথিবী এবং মানুষের জীবনে কিছু বদল আসতে চলেছে। তার কিছু বিষয় অত্যন্ত সুখকর হলেও সঙ্গে আছে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত ও বিপদ। এ বিষয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব
২০২৫ সালে কিছু বিপ্লবী উদ্ভাবন আমাদের ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দিতে যাচ্ছে। যেমন- বায়োপ্রিন্টেড অর্গান, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং ফিউশন শক্তি। এসব প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আমাদের জীবনে আনতে পারে আমূল সুখকর পরিবর্তন। কিন্তু এসব প্রযুক্তির ব্যাপক সুফলের পাশাপাশি এর ঝুঁকিগুলো নিয়েও বিজ্ঞানীসহ সব মানুষকেই থাকতে হবে সজাগ সতর্ক এবং জ্ঞাত।
বায়োপ্রিন্টিং : বায়োপ্রিন্টিং হলো থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে জীবন্ত কোষ এবং বায়োম্যাটেরিয়াল দিয়ে টিস্যু ও অঙ্গ তৈরি করার একটি প্রক্রিয়া। এটি অঙ্গ প্রতিস্থাপন, ব্যক্তিগতকৃত স্বাস্থ্যসেবা এবং ড্রাগ টেস্টিংয়ের ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে পারে। বায়োইঙ্ক (জীবন্ত কোষ) এবং বিশেষ থ্রিডি প্রিন্টার ব্যবহৃত হয়। প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ যেমন কিডনি, লিভার, এমনকি হার্টও তৈরি করা সম্ভব হবে এই প্রযুক্তি দ্বারা। এই প্রযুক্তির সর্বশ্রেষ্ঠ সুবিধা হলো, এতে রোগীর নিজস্ব কোষ ব্যবহৃত হলে অঙ্গ প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধক নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আর থাকবে না। বায়োপ্রিন্টেড টিস্যুতে আরও সঠিক ড্রাগ টেস্টিং করা সম্ভব, যার ফলে পশু পরীক্ষা কমিয়ে আনা যায়। এটি বিশ্বব্যাপী প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গের অভাব মোকাবিলা করতে পারে, যেখানে রোগীর নিজস্ব কোষ ব্যবহার করে অঙ্গ তৈরি করা সম্ভব।
এই প্রযুক্তির কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা যদিও সহজতম টিস্যু যেমন ত্বক এবং কারটিলেজ বা তরুণাস্থি সাফল্যের সঙ্গে বায়োপ্রিন্ট করেছেন তবে জটিল অঙ্গ তৈরি করার চ্যালেঞ্জগুলো বিদ্যমান। । বায়োপ্রিন্টিং লাভজনক বা বাণিজ্যিকভাবে কার্যকরী হতে গেলে এগুলোর প্রতিটি ত্রুটি সংস্কারের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। এই প্রযুক্তি কেবল ধনী সমাজের মানুষের জন্য উপলব্ধ হবে না তো? অপরদিকে মানব টিস্যু ল্যাবরেটরিতে তৈরি করার নৈতিকতা বিষয়ক ধোঁয়াশার সমাধান দরকার।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং : কোয়ান্টাম কম্পিউটিং একটি উন্নত প্রযুক্তির কম্পিউটার, যেটি গণনা করার জন্য কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মূলনীতি ব্যবহার করে। সাধারণ কম্পিউটারগুলো বিট ব্যবহার করে, যা ০ বা ১ এর মধ্যে একটি মান ধারণ করে, কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটার কোয়ান্টাম বিট বা ‘কিউবিট’ ব্যবহার করে, যা একাধিক অবস্থায় একসঙ্গে থাকতে পারে। এর ফলে কোয়ান্টাম কম্পিউটারগুলো প্রচলিত কম্পিউটারগুলোর তুলনায় আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে জটিল সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এর ব্যবহার যোগ্যতা বাড়াতে ত্রুটির হার এবং কিউবিট স্থিতিশীলতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কোয়ান্টাম-প্রতিরোধী প্রযুক্তি, যা পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি হিসেবে পরিচিত, এমন এনক্রিপশন পদ্ধতিকে বোঝায়, যা কোয়ান্টাম কম্পিউটার দ্বারা সৃষ্ট সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে ডেটা সুরক্ষিত করতে ডিজাইন করা হয়েছে। কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ক্ষমতা অনেক পুরনো এনক্রিপশন অ্যালগরিদম, যেমন RSA এবং ECC (এলিপটিক কার্ভ ক্রিপ্টোগ্রাফি) ভাঙার সক্ষমতা রাখে। কোয়ান্টাম-প্রতিরোধী অ্যালগরিদমগুলো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা কোয়ান্টাম কম্পিউটার দ্বারা ভাঙা না যায়, ফলে ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম কম্পিউটার সহজলভ্য হলে তথ্যে গোপনীয়তা এবং অখণ্ডতা নিশ্চিত করা যায়। এই প্রযুক্তি ব্যাংকিং, অনলাইন লেনদেন এবং ডেটা সঞ্চয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটাল সুরক্ষা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান ভবিষ্যতের উদ্ভাবনে একটি বড় ভূমিকা রাখবে। ২০২৫-এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরও উন্নত হবে। এটি এমন একটি সৃজনশীল সহকারী হবে, যা মানুষের পক্ষে সংগীত তৈরি, আর্কিটেকচার ডিজাইন করা এবং বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আবিষ্কার করতেও সহায়ক হতে পারে। তবে এআইর ক্ষেত্রে একটি ব্ল্যাক বক্স ধারার সমস্যা বিজ্ঞানীদের যুঝতে হয়। এর মানে হলো ডেভেলপার নিজেই বুঝতেই পারেন না যে, কীভাবে এবং কেন এআই তার সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে। ব্ল্যাক বক্স প্রকৃতি এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে একটি এআই মডেলের অন্তর্নিহিত সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া, বিশেষ করে জটিল সিস্টেম যেমন নিউরাল নেটওয়ার্কগুলোর ক্ষেত্রে, সহজে বোঝা যায় না। যদিও ইনপুট এবং আউটপুট দৃশ্যমান, তবে এটি জানাটা কঠিন যে এআই কীভাবে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা পূর্বাভাসে পৌঁছেছে। যা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সিস্টেমে সম্ভাব্য পক্ষপাতিত্বের বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
ফিউশন এনার্জি : ফিউশন এনার্জি হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে হাল্কা আণবিক কণাগুলো, যেমন হাইড্রোজেন, একসঙ্গে মিশে একটি ভারী নিউক্লিয়াস তৈরি করে, যার ফলে বিশাল পরিমাণে শক্তি মুক্ত হয় এটি ঠিক সেই শক্তি, যা সূর্য উৎপন্ন করে। এটি অসীম পরিষ্কার শক্তির সম্ভাবনা প্রদান করে, যেখানে তেমন কোনো কার্বন নির্গমন বা বিপুল পরিমাণে রেডিওএকটিভ বর্জ্য নেই। তবে বাস্তবিক ফিউশন শক্তি অর্জন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কারণ এটি একটি রিঅ্যাকশন বজায় রাখতে সূর্যের কেন্দ্রের তুলনায়। অনেক বেশি তাপমাত্রা তৈরি ও রক্ষা করার প্রয়োজন। এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, গবেষকরা ফিউশন পাওয়ার প্ল্যান্টগুলো বিকাশে কাজ করছেন।
কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি : কার্বন ক্যাপচার টেকনোলজি বিশেষভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, কেননা এটি শুধু গ্যাস নিঃসরণ কমায় না, বরং বাতাস থেকে CO2 শোষণ করে পরিবেশে পুনঃব্যবহারযোগ্য অথবা সঞ্চয়যোগ্য করতে সাহায্য করবে। এটার ব্যবহার শুধু গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ কমিয়ে আনবে না, বরং আসল গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো আমাদের গ্লোবাল উষ্ণায়নের প্রভাব থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করা। প্রযুক্তির প্রয়োগে বিভিন্ন সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে, যেমন বায়োমাইক্রো যা CO2 পুনঃচক্রণে সহায়ক হতে পারে বা শিল্প পরিসরে বড় পরিমাণ CO2 শোষণ ফিল্টার ব্যবহার করা। তবে এর স্কেলিং সমস্যা রয়েছে এবং বিশেষভাবে এটি কার্যকর হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ক্ষমতার জন্য আরও উন্নয়ন প্রয়োজন।
অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) : অগমেন্টেড রিয়েলিটি, যা মূলত গেমিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন আমরা তার আরও বিভিন্ন প্রয়োগ দেখব। ২০২৫ সালের মধ্যে এই প্রযুক্তি মানুষের প্রতিদিনের জীবন ও কাজের বাস্তবতায় ব্যাপকভাবে ভূমিকা রাখবে। যেমন যখন আপনি অগমেন্টেড রিয়েলিটির চশমা পরে রাস্তা দিয়ে হাঁটবেন তখন আপনি রিয়েল টাইমে পথনির্দেশনা, রেস্টুরেন্ট রিভিউ বা ভাষান্তরের তথ্য দেখতে পাবেন। এআর চিকিৎসা ক্ষেত্রে, যেমন অপারেশন চলাকালে, ডাক্তারদের সহায়তা করতে পারে। আর্কিটেকচারে, কোনো প্রকল্পের ত্রিমাত্রিক প্রদর্শন করতে পারে আগে থেকেই। তবে এই বিষয়টি যতটা উত্তেজনাপূর্ণ, ঠিক ততটাই এই প্রযুক্তির প্রাইভেসি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে। যেহেতু অজ ডিভাইসগুলো সচল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের চারপাশের তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেগুলো অপব্যবহারের সম্ভাবনা রয়ে যায়। এ বিষয়ে বিজ্ঞানীদের আরও গবেষণা করতে হবে।
সিনথেটিক বায়োলজি : সিনথেটিক বায়োলজি হলো একটি অ্যাডভান্সড প্রযুক্তি, যা জৈব পদার্থ এবং প্রকৌশল সংমিশ্রিত করে নতুন প্রজাতির জীবন সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে ড্রাউট রেসিস্ট্যান্ট ফসল, বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক এবং এমনকি তেল বিপর্যয়ের মতো দুর্ঘটনা রোধের জন্য নির্দিষ্ট জীবাণু তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে আমরা বৃহৎ অঙ্গনে পরিবেশের দূষণ ও খাদ্য নিরাপত্তার সমস্যাগুলোর সমাধান দেখতে পাব।
সিনথেটিক বায়োলজি অনেক ধরনের ঝুঁকি বহন করে, বিশেষ করে এর মাধ্যমে নতুন অঙ্গবিকৃতি বা জিনগত পরিবর্তন তৈরি করা, যা বাস্তুতন্ত্রে গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে। সিনথেটিক প্রাণী বা উদ্ভিদকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হলে এরা প্রাকৃতিক প্রজাতিগুলোকে প্রতিযোগিতায় হারিয়ে ফেলতে পারে অথবা নতুন রোগ ছড়িয়ে দিতে পারে। জীবনের পরিবর্তন নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন এবং অপ্রত্যাশিত পরিবেশগত প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ একটি সমস্যা। এ ছাড়া জেনেটিক্যালি মডিফাইড প্রজাতি তৈরি করা হলে তাদের অসৎ উদ্দেশ্যে অপব্যহার করার ঝুঁকি থাকে। এই ঝুঁকিগুলো কমাতে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা অত্যন্ত প্রয়োজন।
হাই-অলটিটিউড প্ল্যাটফর্ম স্টেশন (HAPS) :
HAPS হলো অতি উচ্চে ভাসমান স্টেশন, যা সাধারণত বড় ব্যালুন বা বিমান দ্বারা পরিচালিত হয় এবং এটি পৃথিবীর নিম্ন বায়ুম-লে স্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দূরবর্তী বা দুর্ভিক্ষপীড়িত এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। ঐঅচঝ প্রযুক্তি সংকটপূর্ণ সময়ে, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারীর সময় দ্রুত ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করে। যদিও এই প্রযুক্তি প্রচুর সুবিধা প্রদান করে, এর পরিচালনা এবং উন্নয়ন এর উচ্চ খরচ এবং পরিবেশগত প্রভাব তৈরি করতে পারে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এর ব্যবহারে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন এসব স্টেশন দীর্ঘ সময় আকাশে বহাল রাখতে উন্নত প্রযুক্তি এবং শক্তির প্রয়োগ করা লাগবে এবং আন্তর্জাতিক আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণগুলো মান্য করা যথেষ্ট কঠিন হতে পারে।
প্রাইভেসি এনহান্সিং টেকনোলজি (PETs)
প্রাইভেসি এনহান্সিং টেকনোলজি এমন প্রযুক্তি, যা ডেটার সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে, গোপনীয় তথ্য বিশ্লেষণ বা প্রক্রিয়া করার সময় তা অবিকৃত রেখে সুরক্ষিতভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। এর মধ্যে হোমোমরফিক এনক্রিপশন, যা তথ্য সমাধান বা গণনা করার সময় ডেটাকে নিরাপদ রাখে। চঊঞং ব্যবহারে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে, তবে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য প্রযুক্তির খরচ এবং স্থিতিশীলতা পরীক্ষা করতে হয়।
স্পেস ম্যানুফ্যাকচারিং : স্পেস ম্যানুফ্যাকচারিং হলো মহাকাশে বিশেষভাবে মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা লো-গ্র্যাভিটি পরিবেশে পণ্য ও উপকরণ উৎপাদনের প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে উন্নতমানের উপকরণ যেমন ধাতব অ্যালয় বা ফাইবার অপটিক্স তৈরি করা যেতে পারে, যা পৃথিবীতে উৎপাদন করা কঠিন বা অসম্ভব। মহাকাশে উৎপাদনের সুবিধা হলো উপকরণের মধ্যে অশুদ্ধতা এবং ত্রুটির পরিমাণ কমে আসে। মহাকাশ স্টেশন বা স্যাটেলাইটগুলো এই উৎপাদনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা মহাকাশ, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে উপকারী হতে পারে। এটি ভবিষ্যতের মহাকাশ অন্বেষণ মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কাঁচামাল সরবরাহের খরচ কমিয়ে পণ্য উৎপাদন সাশ্রয়ী এবং উচ্চমানের করতে পারে।