আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর মিরপুরে গুলিবিদ্ধ অটোরিকশাচালক আশরাফুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড পাঠাল সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি রওনা দিয়েছেন। থাইল্যান্ডের ভেজথানি হাসপাতালে তার চিকিৎসা হবে।
জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু এই তথ্য জানান।
জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নেন আশরাফুল ইসলাম। গত বছরের ৫ আগস্ট বিক্ষোভ চলাকালে সকাল ১০টার দিকে তার মাথায় গুলি লাগে। সেখান থেকে তাকে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে আনা হয়। তিনি হাসপাতালের ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদারের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ডা. মোয়াজ্জেম জানান, ভর্তির পর মাথায় অপারেশন করে মাথার খুলি খুলে রাখা হয়। তারপর তাকে আইসিইউতে শিফট করা হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। দীর্ঘ দুই মাস তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।
তিনি জানান, গত দুই মাস চিকিৎসার পরও আশরাফুল সুস্থ হয়ে ওঠেননি। হাত-পা অবশ হয়ে যায়। জ্ঞান ফেরেনি পুরোপুরি। মাঝে মাঝে চোখ মেলে তাকাতেন। সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। দুটো ফুসফুসই আক্রান্ত হয়। সাথে রক্তচাপ কমে যেতে থাকে। উন্নত চিকিৎসায় তিনবার বোর্ড মিটিং হয়। সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম আবার মেডিকেল বোর্ড করার নির্দেশ দেন। বোর্ড সিদ্ধান্ত দেয় বিদেশে নেয়ার।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার নির্দেশে আশরাফুলকে বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মাত্র ৩ দিনের মধ্যে আশরাফুল ও তার স্ত্রীর পাসপোর্ট তৈরি, থাইল্যান্ড থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করা ও এসব কাজের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড়সহ সব কাজ শেষ করা হয়। শেষে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে থাইল্যান্ড নিয়ে যাওয়া হয়।
এ নিয়ে আন্দোলনে আহত ১৩ জনকে উন্নত চিকিৎসায় বিদেশ পাঠাল সরকার। এর মধ্যে একজন সিঙ্গাপুরে আছেন ও একজন সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে এসেছেন। আশরাফুলসহ বর্তমানে ১১ জন থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।