স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য মক্তব থাকা প্রয়োজন

জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম, রাজধানীর অভিজাত এলাকা দিলু রোডের এক নান্দনিক মাদ্রাসা। পরিচালনার দায়িত্বে আছেন মুফতি সালাহ উদ্দিন। দ্বীনি শিক্ষা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান আল মাহমুদ

জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম, রাজধানীর অভিজাত এলাকা দিলু রোডের এক নান্দনিক মাদ্রাসা। পরিচালনার দায়িত্বে আছেন মুফতি সালাহ উদ্দিন। দ্বীনি শিক্ষা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান আল মাহমুদ

দেশ রূপান্তর : কিছুদিনের মধ্যেই সারা দেশের স্কুল, কিন্ডার গার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়ামে ভর্তি যুদ্ধ শুরু হবে। স্কুলমুখী শিশুদের দ্বীন শেখা নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

মুফতি সালাহ উদ্দিন : প্রতিটি মুসলিমের ওপর দ্বীনি ইলম শেখা ফরজ। বাচ্চাদের জন্য যে পরিমাণ কোরআন শেখা দরকার এবং যেসব মাসয়ালা জানা দরকার সেটার জন্য উপযোগী ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য। এক সময় মক্তব শিক্ষা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের মুসলিম শিশুরা বিশুদ্ধ কোরআন শেখার পাশাপাশি জরুরি দ্বীনি ইলম অর্জন করত। এখনো গ্রামাঞ্চলে কিংবা শহরাঞ্চলের কোথাও কোথাও সেই ব্যবস্থাপনা চোখে পড়ে। কিন্তু ব্যাপকভাবে তেমন দেখি না। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। ঢাকার নবাবগঞ্জে আমাদের যে শাখা রয়েছে, তাতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। ইদানীং আফটার স্কুলসহ যারা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে তাদের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলে মনে করছি। এমন উদ্যোগ আরও হওয়া দরকার। এ জন্য আমি মনে করি, প্রতিটি মাদ্রাসার পাশে স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য মক্তব থাকা খুবই প্রয়োজন।

দেশ রূপান্তর : মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মাদ্রাসার আবাসিক পরিবেশ নিয়ে কিছু বলুন।

মুফতি সালাহ উদ্দিন : মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদের বোর্ড রয়েছে। বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ দেখবেন বিষয়টা। ব্যক্তিগতভাবে মন্তব্য করাটা উপযোগী মনে করছি না। তবে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকসহ কিছু বোর্ডের কার্যক্রম বেশ ভালো। আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়ার এবং ব্যাপক সংস্কার করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। শিক্ষক প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। আমি মনে করি, কেউ শিক্ষকতা করবে, আর এ বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ নেবে না, তা উচিত নয়। বাচ্চাদের যারা শিক্ষক, তাদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ চালু আছে। তবে কিতাব বিভাগের শিক্ষক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন অনেক। কোন কিতাব কীভাবে পড়ানো হবে ইত্যাদি বিষয়ে বোর্ড থেকে বা মাদ্রাসার উদ্যোগে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষকদের দরস পদ্ধতি আরও পরিশীলিত ও গোছানো হবে বলে বিশ্বাস করি। আর মাদ্রাসার পরিবেশ বর্তমানে যেভাবে আছে সেটাকে স্বাস্থ্যবান্ধব করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য বিনোদন হয় এমন কিছু রাখা দরকার বলে মনে করি।

দেশ রূপান্তর : ফেব্রুয়ারিতে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা। বরাবরই আপনার প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো হচ্ছে। এবারের প্রস্তুতি কেমন?

মুফতি সালাহ উদ্দিন : আমাদের মূল টার্গেট পরীক্ষাকেন্দ্রিক নয়। বছরের শুরু থেকেই আমাদের মেহনত থাকে কিতাবি যোগ্যতা অর্জনের প্রতি। পাশাপাশি পরীক্ষায় কীভাবে ভালো রেজাল্ট করা যায়, সে বিষয়েও আমাদের মেহনত থাকে। বছরের শুরু থেকেই আমাদের ধারাবাহিক নিয়ম থাকে। প্রতি বছরের মতো এবারও আশা করছি ভালো ফল লাভ করবে আমাদের শিক্ষার্থীরা।

দেশ রূপান্তর : দিলু রোড মাদ্রাসার এই উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার পেছনে কাদের অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করবেন?

মুফতি সালাহ উদ্দিন : আমাদের এই উন্নয়নের পেছনে রয়েছে আমাদের মধ্যে থাকা সমন্বিত প্রয়াস। আমাদের এখানে ছাত্র-ওস্তাদদের মাঝে রয়েছে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক। ওস্তাদরা যেমন মেহনতি, ছাত্ররাও তেমন মেহনতি। এই আন্তরিকতা ও মেহনতের ফলে রেজাল্টে আমাদের মাদ্রাসার উন্নয়ন ঘটে। একটি মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য ইলম, আমল ও অর্থ এই তিন জিনিসের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকে। কিছু দ্বীনি ভাই আর্থিকভাবে পাশে থাকার কারণে তাদেরও অবদান রয়েছে। সর্বাঙ্গীণভাবে এখানের শিক্ষকদের অবদানকে সর্বপ্রথমে রাখতে চাই। পাশাপাশি বড় বড় ওলামায়ে কেরামের আগমন ও পরামর্শদানও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।