দর্জি দোকানে কম বেশি ভিড় থাকে। তবে কোনো উৎসব এলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। এ সময় প্যান্ট-শার্ট, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস তৈরির চাপ বহুগুণে বেড়ে যায়। যেমন ঈদের মৌসুম এলেই দর্জি দোকানে প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। এবার সেই ঈদের মৌসুম শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে টেইলারিং শপ ও টেইলার্সে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট বাড়িয়েছে। ফলে দর্জি দোকানে পোশাক বানাতে আগের চেয়ে এখন বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝখানে এসে শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) এ-সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশ দুটি হলো মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং দ্য এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫। এই দুটি অধ্যাদেশ জারির পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগ গতকাল এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। ফলে এই অধ্যাদেশের পরিবর্তনগুলো সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়ে গেছে।
জানা যায়, এত দিন টেইলারিং শপ ও টেইলার্সে ভ্যাটের হার ছিল ১০ শতাংশ। এখন সেটি বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে এনবিআর। ফলে টেইলারিং শপ ও টেইলার্সে ২ হাজার টাকার একটি পোশাক বানাতে ৩০০ টাকা ভ্যাট দিতে হবে। এত দিন সেটি ছিল ২০০ টাকা। তার মানে খরচ বাড়বে ১০০ টাকা।
এদিকে আপনি ভাবতে পারেন, দর্জি দোকানে পোশাক বানালে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। আপনি ভাবলেন, তাহলে দর্জি দোকানে না গিয়ে রেডি বা তৈরি পোশাক কিনে ফেললেই টাকা বাঁচবে। কিন্তু তেমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। ব্র্যান্ড ও নন–ব্র্যান্ড সব ধরনের তৈরি পোশাকের দোকানেও ভ্যাট বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে এসব দোকানে ভ্যাট ছিল সাড়ে ৭ শতাংশ। এখন সেটি ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। তার মানে পোশাক কেনা কিংবা বানানো উভয় ক্ষেত্রেই ভোক্তার খরচ বাড়বে।