'হিরো ভক্তি' টেস্টে ভারতের পতনের কারণ, মনে করেন মাঞ্জরেকার

সাবেক ভারতীয় ব্যাটসম্যান এবং বর্তমান ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার ভারতের টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক মন্দার জন্য ‘কিছু খেলোয়াড়ের প্রতি অতিরিক্ত ভক্তি’ বা ‘হিরো পূজা’কে দায়ী করেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস-এ তার সাম্প্রতিক কলামে মাঞ্জরেকার উল্লেখ করেন যে, এই মন্দা নতুন কিছু নয়; ২০১১-১২ মৌসুমে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ০-৪ ব্যবধানে হারের সময়ও একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।

মাঞ্জরেকার লেখেন, “প্রায় প্রতি ১১-১২ বছরে ভারতের টেস্ট দলের পারফরম্যান্সে এক ধরনের বড় পতন ঘটে। ২০১১-১২ সালে আমরা ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে ০-৪ ব্যবধানে হেরেছিলাম। বারো বছর পর, ভারত নিউজিল্যান্ডের কাছে ০-৩ এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে ১-৩ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে। ব্রিসবেনে বৃষ্টি না হলে, প্রথম ইনিংসে প্রায় ২০০ রানের লিড নেওয়া অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ১-৪ এ শেষ করতে পারত।”

মাঞ্জরেকার জানান, প্রতিটি দলের জন্য এমন ‘প্রজন্মগত মন্দা’ স্বাভাবিক এবং এটি সাধারণত দলগুলোর রূপান্তর পর্বে ঘটে। তবে সঞ্জয়ের মতে, বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ দলগুলোর তুলনায় ভারতের ওপর এর প্রভাব বেশি। তিনি বলেন, “ভারতের এই সমস্যার মূল কারণ হলো আমাদের দেশে বিদ্যমান আইকন সংস্কৃতি এবং কিছু খেলোয়াড়ের প্রতি অতি ভক্তি। ২০১১-১২ হোক বা এখন, একই পরিস্থিতি বারবার ফিরে আসে। আইকনিক খেলোয়াড়েরা তাদের ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।”

মাঞ্জরেকার মনে করেন, আইকনিক খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আবেগপ্রবণ হওয়া একটি বড় সমস্যা। তিনি লেখেন, “বড় খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে আমরা দেশের মানুষ হিসেবে যুক্তিসঙ্গত থাকতে পারি না। আবেগ আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে, আর যারা সিদ্ধান্ত নেন (নির্বাচকরা) তারাও এই আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হন। ফলে ক্রিকেটীয় যুক্তি উপেক্ষিত হয় এবং নির্বাচকরা আশা করেন, খেলোয়াড়টি নিজে থেকে সরে দাঁড়াবেন। কারণ, তারা চান না যে, তাদের এমন ‘ভিলেন’ হিসেবে দেখা হোক, যারা একজন আইকনিক খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার নির্মমভাবে শেষ করেছে।”

মাঞ্জরেকার যোগ করেন, “যদি খেলোয়াড় নিজে থেকে সরে না যান, তবে এটি ভারতের ক্রিকেটের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণত আমাদের আইকনরা—কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া—খেলাটি ছাড়তে দেরি করেন, যখন তাদের পারফরম্যান্স শোচনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়। নির্বাচকরা এবং প্রশাসন জানেন যে, তারা মূলত জনগণের আবেগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করছেন।”

সঞ্জয়ের মতে, ভারতের টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিক মন্দা এড়াতে আবেগ নয়, যুক্তি ও ক্রিকেটীয় বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।