প্যাট কামিন্স বাবা হতে যাচ্ছেন। তাই পেয়েছেন ছুটি। ফলে এ মাসের শেষে শ্রীলঙ্কা সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে নেতৃত্ব দেবেন স্টিভ স্মিথ। ক্রিকেটের কুলিন সংস্করণে অধিনায়কত্ব ফিরে পাওয়ার খুশিতে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশ লিগে আরেকবার নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন স্মিথ। পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে ৬৪ বলে অপরাজিত ১২১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে সিডনি সিক্সার্সকে ১৪ রানের জয় উপহার দিলেন তিনি।
শনিবার সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) ৩১,১৬৫ দর্শকের সামনে স্মিথ যেন ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন। তার ইনিংসে ছিল সাতটি বিশাল ছক্কা। স্মিথের ব্যাটে ভর করে সিক্সার্স ৩ উইকেটে ২২০ রানের বড় স্কোর গড়ে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়।
এই সেঞ্চুরি স্মিথের বিবিএল ক্যারিয়ারের তৃতীয়, যা তাকে বেন ম্যাকডারমটের সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় শীর্ষে নিয়ে গেছে। যেখানে ম্যাকডারমট ১০০ ম্যাচে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, স্মিথ তা করেছেন মাত্র ৩২ ম্যাচে।
৩৫ বছর বয়সী স্মিথ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে দূরে থাকলেও বিবিএলে তার ইনিংস প্রমাণ করেছে, তিনি এখনো বিশ্বমানের। জাতীয় দলে জায়গা না পেলেও এবং আইপিএলের নিলামে দলহীন থাকলেও এই ইনিংস তার দক্ষতার নতুন বার্তা দিয়েছে।
পার্থ স্কর্চার্সের বোলারদের জন্য দিনটি ছিল দুঃস্বপ্নের। অ্যান্ড্রু টাই চার ওভারে দেন ৬২ রান, আর ঝাই রিচার্ডসনের খরচ ৫১। স্মিথের ব্যাট থেকে আসা একটি ছক্কা ছিল টাইয়ের বলকে লং বাউন্ডারি দিয়ে ইনসাইড আউট শটে উড়িয়ে দেওয়া।
বল হাতে সিডনি সিক্সার্সের শন অ্যাবট দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। চার ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন, যা পার্থের ব্যাটিংকে চাপে ফেলে। পার্থের অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নারের ৩২ বলে ৬৬ রানের ইনিংসও শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ২৩ রান তুলতে পারেনি।
এই জয়ের মাধ্যমে লিগ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে সিডনি সিক্সার্স। স্মিথের অসাধারণ ইনিংস কেবল ম্যাচটিই নয়, দর্শকদের মনে এক অনবদ্য দিন উপহার দিয়েছে।