নবজাতকের জন্মকালের শ্বাসরুদ্ধতা

জন্মের পর পর নবজাতকের শ্বাসপ্রশ্বাস প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর এটি হয় চিৎকার করে কান্নার মাধ্যমে। জন্মের পর নবজাতকের কান্না দেরি করে হলে ধরে নিতে হবে শিশুটির অক্সিজেন বা রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রসব পরবর্তী ১ মিনিটের মধ্যে শ্বাস না নিলে শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। এ সমস্যাকে বলা হয় নবজাতকের জন্মকালের শ্বাসরুদ্ধতা। এজন্য শিশু জন্মের পর ১ম মিনিটকে গোল্ডেন ১মিনিট বলা হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১,২০,০০০ শিশু জন্মের ২৮ দিনের মধ্যে মারা যায়। এই সব শিশু মৃত্যুর একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো জন্মকালের শ্বাসরুদ্ধতা।

কারণ

মায়ের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা : যেমন উচ্চ রক্তচাপ/রক্তচাপ কমে গেলে, ডায়াবেটিস, রক্তস্বল্পতা, গর্ভাবস্থায় রক্তপাত, খিঁচুনি, পেটব্যথা, জ্বর।

মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় শিশুর গলার চারপাশে নাড়ি পেঁচিয়ে যাওয়া

ফুসফুসের গঠনগত কোনো সমস্যা।

প্রলম্বিত প্রসব

বাধাগ্রস্ত প্রসব

লক্ষণ

জন্মের ১ম মিনিটের মধ্যে কান্না না করলে

স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস না নেওয়া

গায়ের রঙ নীল/ কালো হয়ে যাওয়া

খিঁচুনি

নেতিয়ে যাওয়া/নড়াচড়া কম করা

 

জটিলতা

শিশুর মানসিক বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা

মৃগীরোগ

অন্ধত্ব

কানে শুনতে অসুবধিা

 

প্রতিরোধ

গর্ভবতী মাকে নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।

বাচ্চার ডেলিভারি বাসায় না করে হাসপাতালে করতে হবে এবং ডেলিভারি দক্ষ কারও দ্বারা করাতে হবে।

গর্ভকালে বিপদ চিহ্নসমূহ দেখা গেলে দ্রুতই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

শেষকথা, নবজাতক জন্মের পর পরই কাঁদতে দেরি হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজন হলে যেখানে নবজাতকের চিকিৎসার সুব্যবস্থা আছে, সেখানে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।