ভ্যাট প্রত্যাহারে একাট্টা সবাই

চলতি অর্থবছরের মাঝামাঝি হঠাৎ শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। সেই ঘোষণা গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর হয়েছে। এমনিতেই গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে ভোগ্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতিতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারও বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। এরই মধ্যে নতুন করে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এ সংক্রান্ত ঘোষণার পর থেকেই দেশব্যাপী সব মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। ভোক্তা, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দল সব পক্ষই একাট্টা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিতে। গত দুদিন ধরে বিবৃতি ও ছোটখাটো সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের প্রতি ভ্যাট ও কর প্রত্যাহারের দাবি জানানো অব্যাহত রয়েছে। আবার ভোক্তা পর্যায়ে অসন্তোষ বাড়ছে। দুদিনেই ভ্যাট ও করের চাপ পড়েছে সব পর্যায়ের মানুষের মধ্যে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ভ্যাট ও কর প্রত্যাহারের দাবিতে রাস্তায় নামারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এর আগে অংশীজনদের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা ছাড়াই ১ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধিসংক্রান্ত এনবিআরের প্রস্তাব পাস হয়। তারপর ভোক্তা পর্যায় থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সংগঠন ও অর্থনীতিবিদরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করেন। একপর্যায়ে ৪ জানুয়ারি এনবিআর এক বিবৃতিতে দাবি করে, যেসব পণ্য ও সেবায় ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি করা হচ্ছে, তার মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নেই। এতে সর্বসাধারণের ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাবে না; মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়বে না।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে মূল্যস্ফীতি বেশি, ডলারের উচ্চমূল্য এবং ব্যাংকের অতিমাত্রায় সুদের বেড়াজালে দেশের মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে এমন বাস্তবতায় শতাধিক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত তাদের জীবনকে অসহনীয় করে তুলবে। এই ভ্যাট ও কর বৃদ্ধির যত যৌক্তিক কারণই থাকুক না কেন এর বিষয়ে বিকল্প কিছু ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তাদের মতে, রোজার বাকি আর মাত্র দেড়মাস। ফলে এই চাপ গিয়ে রমজানের বাজারে পড়বে। তারা মনে করেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের রিভিউ দরকার।

রাজনৈতিক ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে ভ্যাট ও করের বিষয়ে তৃণমূল থেকে সব পর্যায়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ফলে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরও জনসাধারণের এক ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। এই ইস্যুতে সবাই একাট্টা। এই দাবিতে আন্দোলনের চাপও বাড়ছে।

বিএনপি, জামায়াত, সিপিবি, নাগরিক কমিটিসহ দেশের প্রায় সবকটি রাজনৈতিক দল সরকারের এই সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছে। তারা মনে করে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত মনে করিয়ে দেয় তারা জনগণের প্রতি উদাসীন। ব্যবসায়ী নেতা ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অংশীজনদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই ১ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধিসংক্রান্ত এনবিআরের প্রস্তাব পাস হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলে অবশ্যই ভোক্তা থেকে শুরু করে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি। 

রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া : দ্রুত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ফলে মানুষের ওপর চাপ বাড়বে। তাদের ভোগান্তি বাড়বে। এমনিতেই সাধারণ মানুষ কষ্টে রয়েছে। আসলে অনভিজ্ঞ সরকার থাকলে যেটা হয় সেটাই হচ্ছে। তাই যত দ্রুত নির্বাচন দিয়ে সরকার জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে ততই মঙ্গল।’

শতাধিক পণ্যের ওপর আরোপ করা বর্ধিত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গতকাল এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ দাবি জানান। তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য অব্যাহতভাবে বেড়ে চলছে। জনগণের জন্য অপরিহার্য পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মানুষের সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে জনগণের মধ্যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আরোপিত শুল্কের কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ আরও এক দফা বাড়বে। কর বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। কিন্তু সরকার বিষয়টির ওপর নজর রাখেনি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর যেন বাড়তি চাপ তৈরি না হয়, সে জন্য অবিলম্বে শতাধিক পণ্যের ওপর আরোপিত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নতুন করে ভ্যাট আরোপ হবে সরকারের নির্দয় সিদ্ধান্ত। এমন গণবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতেও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নেই। সাধারণ মানুষ আয় দিয়ে ব্যয় নির্বাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। ঘরে ঘরে বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অর্থের অভাবে মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছে না।

‘হঠাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ শতাধিক পণ্য ও সেবায় শুল্ক, কর, ভ্যাট বাড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দুটি অধ্যাদেশ জারি করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে’ বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিবাংলাদেশ ন্যাপ। দলটির দুই শীর্ষনেতা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় শুল্কবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, সরকার দেশের সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে পুরোপুরি উদাসীন।’ গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এসব কথা বলেন।

তারা আরও বলেন, ‘মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্কবৃদ্ধির অধ্যাদেশ জারির ফলে মূল্যস্ফীতি ও ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য করের আওতা বৃদ্ধি পাবে এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারকে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান যাতে না নামে ও তাদের ভোগান্তি যাতে বৃদ্ধি না পায়।’

শতাধিক পণ্যে ভ্যাট ও কর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এটা ‘আগুনে ঘি ঢালার’ মতো। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ যখন দিশেহারা তখন এই পদক্ষেপ জনদুর্ভোগ আরও চরমে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতার দায়ে মানুষ শাস্তি পেতে পারে না। তিনি আইএমএফের পরামর্শে নেওয়া এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে ভ্যাটস ও শুল্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি হঠাৎ গ্যাসের দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘গণবিরোধী এমন সিদ্ধান্ত’ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর চরমোনাই)।

যেসব পণ্য ও সেবায় কর ও শুল্ক বাড়ল : এর মধ্যে রয়েছে মুঠোফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহার। আবার ব্র্যান্ড কিংবা ব্র্যান্ড নয় এমন পোশাকে ভ্যাটের হার দ্বিগুণ করা হয়েছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) রেস্তোরাঁয় খাওয়ার খরচও বেড়েছে; কারণ সেখানে ভ্যাট তিনগুণ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া দাম বাড়ছে ওষুধ, মিষ্টি, এলপি গ্যাস, আমদানি করা ফল ও ফলের রস, ড্রিংকস, বিস্কুট, চশমার ফ্রেম, বিভিন্ন ধরনের টিস্যু, সিগারেটসহ নানা পণ্যের। এসব পণ্যভেদে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট বসানো হয়েছে। আবগারি শুল্ক বাড়ানোয় আকাশপথে ভ্রমণে খরচও বাড়বে।

কী বলছেন অর্থনীতিবিদরা : অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী সরকারকে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে। গত কয়েক বছর সরকার এটি পারেনি এবং সে জন্যই মনে হয় এখন সরকার একটি সহজ পথ বেছে নিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, আইএমএফের ঋণের প্রথম তিন কিস্তির সময় রাজস্ব বাড়ানো বা কর-জিডিপি অনুপাতের ক্ষেত্রে যে শর্ত ছিল বাংলাদেশ তা পূরণ করতে পারেনি। ফলে এবার সংস্থাটি আরও চাপ বাড়িয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় সরকারের ট্যাক্স-ভ্যাট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া ঠিক হয়নি। ভ্যাট-সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর তালিকায় এমন অনেক পণ্য-সেবা আছে, সেখানে সাধারণ মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। শুধু গরিব মানুষই পড়বে না, মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপরও চাপ পড়বে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ানোর উদ্যোগ মূল্যস্ফীতি কমানোর ক্ষেত্রে একটা বাধা হিসেবে কাজ করবে। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে, ডলারের দাম বেশি। গণ-অভ্যুত্থানের পর বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ঋণের সুদহারও অনেক বেশি। এমন পরিস্থিতিতে চাপে পড়বে জনগণ। ভ্যাট ও কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতিকে আরেক দফা উসকে দিতে পারে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। গতকাল ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, সরকারের এমন পদক্ষেপের সঙ্গে আমরা একমত নই। বেসরকারি খাতে একসঙ্গে এতগুলো জায়গায় ভ্যাট বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতীমূলক। অংশীদারদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতিকে আরেক দফা উসকে দিতে পারে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, সীমিত ও প্রান্তিক আয়ের মানুষ এমনিতেই নিত্যপণ্যের ক্রমাগত দাম বৃদ্ধি নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি, সেখানে এই ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা আরেক দফা তাদের পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়িয়ে তাদের জীবনে নতুন করে আবারও অস্থিরতা তৈরি করবে। তাই এই অধ্যাদেশ বাতিল অথবা আগামী রমজান পর্যন্ত এই অধ্যাদেশ কার্যকর না করার দাবি জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।

ক্যাবের বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রমাগত খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য এবং সেবার মূল্য বাড়ছে। ফলে নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারও ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির চাপে জীবন-জীবিকা নির্বাহে প্রায় দিশাহারা। আর এর মধ্যেই এই ভ্যাট-সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতিকে আরেক দফা উসকে দিতে পারে। তারা বলেন, রমজান উপলক্ষে এখন থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বিশেষ করে তেল, ডাল, চিনি, ছোলা, মাছ, মাংস, মসলা অনেক পণ্যেরই দাম বাড়ানো ও মজুদ করা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। শীতের ভরা মৌসুমে শীতকালীন সবজির দাম কিছুটা কম থাকলেও ক্রমাগতভাবেই বাড়ছে চালের দাম। প্রকার ভেদে চাল কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এই সময়ে এভাবে ভ্যাট-সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগে আরেক দফা দাম বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন ছড়াতে পারেন। এভাবে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হলে রমজান মাসে প্রান্তিক ও সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠবে। এমনকি রোজাদাররা সারা দিন রোজা রাখার পর ইফতারে ফল রাখতে পারবেন না।