নতুন তারকার উত্থান অনেক সময় বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। সেই তারকাকে যত্ন নিয়ে গড়ে তোলার চেয়ে, তড়িঘড়ি ফল পেতে গিয়ে তাকে নিঃশেষ করে দেওয়ার উদাহরণ ক্রীড়াজগতে ভুরিভুরি। নাহিদ রানার বেলায় যেন এমনটা না হয়, সতর্কবার্তা দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার কার্টলি অ্যামব্রোস।
২২ বছর বয়সী এই পেসারের মূল শক্তি তার গতিতে। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার সামর্থ্য দিয়ে ইতিমধ্যেই তিনি নজর কেড়েছেন ক্রিকেটবিশ্বের। কিন্তু এই গতির ধার ধরে রাখতে হলে রানার যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন অ্যামব্রোস।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ধারাভাষ্য দেওয়ার জন্য বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করা এই কিংবদন্তি গতকাল সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন। রানাকে নিয়ে নিজের ভাবনা জানিয়ে অ্যামব্রোস বলেন, ‘তরুণ পেসার হিসেবে সে দারুণ প্রতিভাবান। তবে এত অল্প বয়সে বেশি ম্যাচ খেললে শারীরিক চাপ নিতে পারবে না। এভাবে চললে ভালোভাবে শুরু করার আগেই ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। রানাকে সঠিকভাবে ম্যানেজ করতে হবে।’
উইন্ডিজ সফরে গত ১০ ডিসেম্বর শেষ ম্যাচ খেলার পর কয়েক সপ্তাহ বিশ্রামের সুযোগ পান রানা। তবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে মাত্র ১১ দিনের মধ্যে ৬টি ম্যাচ খেলেছেন। আজ খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে নেমছিলে। এটা ছিল ১৪ দিনের তার সপ্তম ম্যাচ।
বিপিএল শেষে আগামী ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) মাঠে গড়াবে। আজকের ড্রাফটে নাহিদ রানাকে দলে নিয়েছে পেশোয়ার জালমি। এটি হবে দেশের বাইরে রানার প্রথম ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। অর্থাৎ আগামী কয়েক মাস টানা ক্রিকেট খেলার চাপ নিতে হবে এই তরুণ পেসারকে।
৯৮ টেস্টে ৪০৫ উইকেট নেওয়া অ্যামব্রোস মনে করেন, তরুণ বয়সে একজন পেসারের শরীর এখনো পুরো প্রস্তুত থাকে না। তাই রানার মতো গতিময় পেসারদের ক্যারিয়ার দীর্ঘ করতে হলে ধীরে ধীরে তার খেলার চাপ বাড়ানো উচিত।
রানাকে নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন অ্যামব্রোস। ‘ক্যারিবিয়ান সফরে রানার বোলিং দেখেছি। তার বলে গতি আছে, যা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। ভালো গাইডলাইন পেলে সে বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় অবদান রাখতে পারবে,’ বলেন তিনি।
পিএসএলে দল পাওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে নাহিদ রানা ধন্যবাদ দিয়েছেন সৃষ্টিকর্তাকে। এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রথম কোনো বিদেশি লিগে দল পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, ভালো লাগছে। তবে আপাতত বিপিএল নিয়েই ভাবছি। এটা শেষ হলে পিএসএল নিয়ে ভাবব।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য দারুণ সম্পদ হতে পারেন নাহিদ। তবে এই প্রতিভাকে যথাযথ পরিচর্যা না করলে, তা হতাশায়ও রূপ নিতে পারে। অ্যামব্রোসের সতর্কবার্তা তাই বাংলাদেশের ক্রিকেট পরিচালকদের জন্য বড় শিক্ষা হতে পারে।