দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে নোয়াখালীর হাতিয়ায় মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। প্রায় হাজারখানেক মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করায় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার রাস্তায় দেখা দেয় তীব্র যানজট, এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
গতকাল সোমবার দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত জনসভার পূর্বে তার নেতৃত্বে এই শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জনগণের দুর্ভোগ হয়- এমন কোনো কর্মসূচি পালনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। কোনো প্রকার বিলবোর্ড টানানো এবং নেতাদের শোডাউন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত এক নির্দেশনা দলের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শোডাউন করায় শোকজ করা হয় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকনকে। এর আগে, গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর একই অপরাধে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন বাবুল, নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তানভীর উদ্দীন রাজিব এবং নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিংড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দাউদার মাহমুদকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী বলেন, ‘পার্টির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যেখানে মোটরসাইকেল শোডাউনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সেখানে কেন্দ্রীয় একজন নেতা এই ধরনের কাজ কীভাবে করেন? আজকের এই শোডাউনের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের পার্টির সুনাম নষ্ট হচ্ছে।’
এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমের মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।