রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রসাটম একটি বহুমুখী গবেষণা চুল্লি নির্মাণ করছে। চতুর্থ প্রজন্মের চুল্লিটি রাশিয়ার পারমাণবিক চুল্লি গবেষণা ইন্সটিটিউটের সাইটে নির্মিত হচ্ছে। দেশটিতে পরমাণু বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং প্রযুক্তির উন্নয়নে গৃহীত সর্বাত্মক প্রোগ্রামের অংশ এই নতুন গবেষণা চুল্লি।
আজ মঙ্গলবার রসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চুল্লিটির জন্য প্রাথমিক তাপ অপসারণ সার্কিট এবং জ্বালানী ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংযোজনের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুটি ইন্টারমিডিয়েট হিট এক্সচেঞ্জার স্থাপিত হয়েছে, প্রতিটির ওজন ৩৮ টন, উচ্চতা ৯ মিটার এবং প্রস্থে ২.৫ মিটার। ফ্রেশ এবং ব্যবহৃত জ্বালানির জন্য প্রতিটি ১৬ টন ওজনের দুটি ড্রাম ডিজাইন পজিশনে স্থাপিত হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘কোর ক্যাচার’ স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে।
রিয়্যাক্টর কোরে ফ্রেশ জ্বালানি প্রবেশের আগে নিষ্ক্রিয় গ্যাসের উপস্থিতিতে জ্বালানি অ্যাসেম্বলিকে উত্তপ্ত করার জন্য ফ্রেশ ফুয়েল ড্রাম ব্যবহৃত হয়। স্পেন্ট ফুয়েল ড্রামের কাজ হলো রিয়্যাক্টর থেকে বের করে আনার পর স্পেন্ট ফুয়েলকে শীতল করা।
নতুন এই রিয়্যাক্টরটি বর্তমানে ব্যবহৃত বিওআর-৬০ গবেষণা চুল্লির স্থলাভিষিক্ত হবে, যা পরবর্তী অর্ধশতক ধরে একটি স্টেট অব দ্য আর্ট গবেষণা সুবিধা প্রদান করবে। নির্মীয়মান চুল্লিটির সাহায্যে দুই কম্পোনেন্ট বিশিষ্ট পারমাণবিক বিদ্যুৎ এবং ক্লোজড জ্বালানি চক্র নিয়ে গবেষণা করা হবে। এর মাধ্যমে চতুর্থ প্রজন্মের নিরাপদ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহারের যৌক্তিকতা প্রমাণ করা সহজ হবে।
এমবিআইআর চুল্লিকে ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে এমবিআইআর আন্তর্জাতিক গবেষণা কেন্দ্র। এখানে রুশ বিজ্ঞানী ও গবেষক ছাড়াও বিদেশি বিজ্ঞানী ও গবেষকরা গবেষণা কাজ পরিচালনা করার সুযোগ পাবেন। এটি কনসোর্টিয়ামের অধীনে পরিচালিত হবে। রুশ এবং বিদেশি পার্টনাররা তাদের জাতীয় পরমাণু কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবেন। নিজস্ব গবেষণা চুল্লি নেই এমন দেশগুলোও এখানে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবেন।