সাবেক এমপি নদভীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দেশত্যাগে  নিষেধাজ্ঞা

চট্রগ্রাম- ১৫ আসনের (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত। 
 
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাতের আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্রগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নুরুল ইসলাম এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু।

এ ছাড়া আজ (বুধবার) চট্টগ্রাম নগরের চার থানায় নদভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আরও পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পৃথক চারটি আদালতে হাজির করে পুলিশ। বিচারকরা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

দুদক জানায়, সাবেক এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইআইইউসি) ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, 'সাবেক সংসদ সদস্য নদভী ক্ষমতার অপব্যবহার করে, রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদক তথ্য পাচ্ছে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ গমন রহিত করা আবশ্যক।’

দুদক পিপি কাজী ছানোয়ার বলেন, ‘অভিযুক্ত সাবেক এমপি নদভীর বিরুদ্ধে সরকার পতনের পরবর্তীতে একাধিক মামলা হয়েছে এবং তিনি গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এসব মামলায় জামিন পেয়ে তিনি বিদেশ চলেও যেতে পারেন। অনুসন্ধানের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই আবেদন করেছেন।’

জানা গেছে, আইআইইউসি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান নদভী ও অন্যদের বিরুদ্ধে সম্মানির নামে ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের একটি অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে। সেটি পর্যালোচনা করে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। 

অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২১ সালে বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান হয়ে নদভী একটি বলয় তৈরি করেন। আইআইইউসি টাওয়ার থেকে সম্মানির নামে নদভী বিধিবহির্ভূতভাবে একাই ১০ লাখ ৯ হাজার টাকা নিয়েছেন।

এছাড়া তার স্ত্রী রিজিয়া সুলতানা চৌধুরী ৩ লাখ ৩৭ হাজার, প্রফেসর ড. কাজী দ্বীন মুহাম্মদ ৬ লাখ ৩০ হাজার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ড. ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আহমদ চৌধুরী ২ লাখ টাকা, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হুমায়ন কবির ৪৫ হাজার, এসিএফডি পরিচালক আফজাল আহমদ ৪৫ হাজার, ড. মুহাম্মদ  মাহী উদ্দীন ৪৫ হাজার, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ শফীউর রহমান ৪৫ হাজার, সরওয়ার আলম ১০ হাজার, জিয়াউর রহমান ১০ হাজার, মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ১০ হাজার, মিডিয়া উপদেষ্টা খালেদ মাহমুদ ১ লাখ, প্রসেফর মোহাম্মদ সালেহ জহুর ১ লাখ, প্রফেসর ফসিউল আলম ৫০ হাজার এবং প্রফেসর আবদুর রহিম ২৫ হাজার টাকা মাসিক সম্মানি হিসেবে নিয়েছেন। সম্মানির নামে টাওয়ার ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৬ জন তিন বছরে ১০ কোটি ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা নিয়েছেন।

এছাড়া নদভী গাড়ি ক্রয়ের জন্য ৬৫ লাখ টাকা ঋণ, ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য ঋণ, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য অর্থ খরচ করেন ইচ্ছামতো। 

গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সাবেক এই সংসদ সদস্যকে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নদভীকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে আনা হয়। পরদিন পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে লোহাগাড়া  ও সাতকানিয়া থানার পাঁচ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।