এনসিটিবি ঘেরাও কর্মসূচিতে হামলাকারীদের বিচার দাবিতে জাবিতে মশাল মিছিল

আদিবাসীদের মতিঝিলের এনসিটিবি ঘেরাও কর্মসূচীতে হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাত আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে আদিবাসীদের সংগঠন ইন্ডিজিনিয়াস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে মশাল মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে আবার শহীদ মিনারের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সমাবেশ করেন তারা। সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী জাবি শাখার সংগঠক সোমা ডুমরি সঞ্চালনা করেন। সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) জাবি শাখার সংগঠক সজিব আহমেদ বলেন, ‘৫ই আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা আসলে আজকের পরিস্থিতি দেখতে চাই না। এই যে সন্ত্রাসী সংগঠন, যেটা আদিবাসী জাতিসত্ত্বার জন্য হুমকি সরূপ সেই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং অবিলম্বে যারা হামলা করেছে তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

ইন্ডিজিনিয়াস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিলছি বলেন,  ‘আমি একজন আদিবাসী। এটা বলতে আমরা কোনো দ্বিধাবোধ নেই। বাংলাদেশের কিছু মানুষ সবসময় আমাদেরকে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও উপজাতি বলেন। কেন আমরা কি আমাদের স্বীকৃতি কখনো পাবো না? আমাদের আদিবাসী স্বীকৃতি আমাদেরকে দিতে হবে। আজকে একটি ন্যাক্যারজনক ঘটনা ঘটেছে। বাংলা ব্যাকরণ বই থেকে আদিবাসী গ্রাফিতি সরানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মতিঝিল অভিমুখী আমাদের আজকের কর্মসূচীতে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে নামধারী উগ্র সংগঠন স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি। এতে আমাদের অনেক ভাই আহত হয়েছেন। আমরা আদিবাসীরা কখনো কারো দয়ায় চলি না। আমাদের অধিকার আমাদেরকে দিতে হবে। রাস্তাঘাটে কেন উপজাতি, রোহিঙ্গা সম্বোধন শুনতে হবে আমাদের?’

২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ছিলো সকল ধর্মের, সকল জাতির, সকল মতের মানুষের এক সূত্রে গাঁথার একটি আন্দোলন উল্লেখ করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার সদস্য সচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে দেখতাম ছাত্রলীগ এই স্টাইলে হামলা করতো। আমরা যখন আন্দোলন করেছি কে বাঙালি, কে ইন্ডিজেনাস, কে অবাঙালি এসব দেখি নাই। জাতীয় ঐক্য না গঠন করে রাষ্ট্রগঠন করতে পারবেন না। আমরা অনেক দিন থেকে বলে আসছি, কোন বিষয়ে যদি বির্তক থাকে তাহলে সেটা আলোচনার টেবিলে, সেমিনারে বসে সমাধান করুন। কিন্তু সেগুলো হামলার মাধ্যমে যারা সমাধান করতে চায়, তাদের পিছনে কোন দোসররা কাজ করছে তা চিহ্নিত করতে হবে। ইন্ডিজেনাস শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা এই সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি এই সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতার আনতে হবে।’