ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে ডাকসুকেন্দ্রিক তৎপরতা। এবার ডাকসুর সংস্কার প্রস্তাবনা দিল অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর ডাকসুর সংস্কার প্রস্তাবনা দেয় ছাত্র সংগঠনটি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে সংস্কার প্রস্তাবনা পেশ করে সংগঠনটি। বিশেষ করে বিদ্যমান কাঠামোয় ডাকসুর সভাপতির পদটি উপাচার্যের জন্য নির্ধারিত হলেও সেটি প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত করার প্রস্তাবনা দিয়েছে সংগঠনটি।
এ সময় ঢাবি প্রশাসনকে ২৭ প্রস্তাবনা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংস্কার প্রস্তাবনায় স্থান পেয়েছে বিতর্কিত নানা ধারাসহ আরও অনেক ধারা উপধারা। ২০১৯ সালে সংযুক্ত বিষয়াবলিরও কড়া সমালোচনা উঠে এসেছে সংস্কার প্রস্তাবনাটিতে।
ডাকসুর গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটার এবং প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সসীমা সুনির্দিষ্টভাবে ৩০ বছর না করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। নিয়মিত ছাত্রত্বের বিস্তারিত সংজ্ঞায়ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের, ডাকসুর গঠনতন্ত্রে নির্দিষ্ট বয়সসীমা উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক স্বাধীনতায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চায় না বলে জানায় সংগঠনটি।
ডাকসুর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাত্র সংসদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছে ছাত্র সংগঠনটি। তাই শিক্ষার্থীদের কার্যকরী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা এবং লালন করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুনাগরিকতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি সৃষ্টি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিভিত্তিক সহযোগিতামূলক কার্যক্রম করাকে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে দেখতে চায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
ছাত্রদলের সংস্কার প্রস্তাবনায়, ডাকসু ও হল সংসদগুলোর নির্বাহী কমিটির সভাপতির পদকে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তাবনা দেওয়ার পাশাপাশি সভাপতি পদের ক্ষমতার ভারসাম্য আনার জন্য শিক্ষক, প্রশাসক, অ্যালামনাই ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।