নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিসারিজ এন্ড মেরিন সাইন্স (ফিমস) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদ সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফিমস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ৩৮ জন শিক্ষার্থী সইসহ বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়।
বুধবার ফিমস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহেদী মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গত রবিবার শিক্ষার্থীরা বিভাগের একজন শিক্ষকের ক্লাস বর্জন নিয়ে একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে একাডেমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেব।
অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, আমাদের একজন শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তার মধ্যে মার্ক টেম্পারিং, পর্দা নিয়ে হেনস্তা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা, ক্লাসরুমে হুমকি দেওয়া এবং জনৈক শিক্ষার্থীকে ফোনে হুমকি দেওয়া। এমতবস্থায় আমরা তার ক্লাস করতে ইচ্ছুক নই এবং ভবিষ্যতে উনাকে সুপারভাইজার হিসেবে চাই না।
শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। শুধু মার্ক বৈষম্য নয়, ওই শিক্ষিকা পাঠদানের সময়েও অবমাননাকর মন্তব্য করেন যা তাদের মনোবলে প্রভাব ফেলে।
তাবাসসুম জাহান সানজি নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ম্যাডাম বিভিন্ন ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন করে আমাকে সহপাঠীদের সামনে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। পর্দার পাশাপাশি আমার পারিবারিক জীবন নিয়েও তিনি হেনস্তা করতেন। একই রকম অভিযোগ আরও কয়েকজনের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিমস বিভাগের ১৬তম ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক ড. নাহিদ সুলতানা বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। চেয়ারম্যান স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। চেয়ারম্যান স্যার খতিয়ে দেখুক। আমি তো বর্তমানে ওই ব্যাচের (১৬ তম ব্যাচ) ক্লাসই পাই না। তাহলে ওরা আমাকে বয়কট করে কিভাবে? আমি এ বিষয়ে এবেশি কিছু বলতে পারছি না।’