গত মাসে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত হলো ৩৭তম আন্তর্জাতিক লাতিন আমেরিকান ও ক্যারিবীয় মুসলিম সম্মেলন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইসলামি শিক্ষা এবং মুসলিম পরিচয় সংরক্ষণের প্রভাব।’ গত ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে এ সম্মেলন।
ব্রাজিলের ইসলামিক দাওয়াহ সেন্টার এবং সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই তিন দিনের সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, ইসলামি স্কলার, গবেষক ও বিশেষজ্ঞগণ।
এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যালঘুদের মাঝে ইসলামি শিক্ষার প্রচার ও প্রসার ঘটানো, সামাজিক সংহতি রক্ষা এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা।
সৌদি আরব এই সম্মেলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশটি মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধের সম্পর্ক স্থাপনে এবং সামগ্রিক ঐক্য ও ভারসাম্য বজায় রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আন্ডার-সেক্রেটারি আওয়াদ আল-আনজি সম্মেলনে সৌদি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং মন্ত্রী আবদুল লতিফ আলে শায়েখের পক্ষ থেকে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন।
আল-আনজি তার বক্তব্যে বলেন, শিক্ষা হলো সঠিক বিশ্বাস ও কর্মের ভিত্তি। ইসলামি শিক্ষা যাবতীয় কুসংস্কার দূর করতে এবং সঠিক ধারণা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি সৌদি আরবের শিক্ষানীতি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেন, যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব বৈশ্বিক শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দেশটি বিভিন্ন দেশে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান এবং বৈজ্ঞানিক উন্নয়নে কাজ করছে।
ইসলামিক দাওয়াহ সেন্টারের প্রধান আহমদ আলী আস-সাইফি সৌদি বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের ধর্মীয় অঙ্গনে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌদি সরকারের পর্যবেক্ষণ এবং সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
আস-সাইফি জানান, তাদের সংগঠনটি আরবি ও শরিয়া বিজ্ঞান শিক্ষাসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শরিয়া ও আরবি ভাষা বিভাগের প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এটি এমন গবেষণা উপস্থাপন করবে, যা এর মূল লক্ষ্য পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার পক্ষ থেকে বক্তৃতা প্রদান করেন ফেডারেল ডেপুটি ভিসেনটিনহো পাওলো দ্য সিলভা। তিনি ব্রাজিল সরকার এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক তুলে ধরেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করেন। পাওলো দ্য সিলভা বলেন, সৌদি আরব ও ব্রাজিলের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। আরবদের, বিশেষ করে সৌদি আরবের প্রতি ব্রাজিলের উচ্চ শ্রদ্ধার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
এই সম্মেলনটি মুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্বকারী ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ এ সম্মেলনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সুইডিশ ফতোয়া কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান হাসান মুসা সৌদি নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রচার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের সহায়তায় তাদের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
এই সম্মেলনের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ইসলামি শিক্ষার প্রচার, মুসলিম পরিচয় রক্ষা এবং সম্প্রদায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়।
সূত্র : আরব নিউজ