গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে চিঠিতে মতামত চাইল সরকার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনের কাছ থেকে চিঠির মাধ্যমে মতামত চেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করতে গত বৃহস্পতিবার সর্বদলীয় বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে এই মতামত চাওয়া হলো।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে পত্রযোগে মতামত জানানো যাবে। আগামী ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয় বরাবর চিঠিতে মতামত জানাতে হবে। মতামত পর্যালোচনা করে একটি সর্বজনগ্রাহ্য ঘোষণাপত্র তৈরি করা হবে। পরবর্তীতে জনগণের উপস্থিতিতে এই ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবারের সর্বদলীয় বৈঠকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতারা অংশ নেন। বৈঠকের আগে ঘোষণাপত্রের একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছিল, যা আলোচনার সুবিধার্থে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে দেওয়া হয়েছিল।

এই খসড়ায় ১৯৭২ সালের সংবিধান সংশোধন বা প্রয়োজনে বাতিল করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হয়েছে। আর এই ঘোষণাপত্র গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য এটি খসড়া। এখন আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে চেয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। এ ঘোষণাপত্র নিয়ে তখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়। হঠাৎ ঘোষণাপত্রের বিষয়টি কেন সামনে আনা হলো তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং তখন এ উদ্যোগের সঙ্গে সরকার সম্পৃক্ত নয় বলে উল্লেখ করেছিল। পরে ৩০ ডিসেম্বর রাতে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।