কোথায় কোথায় ধূমপান করা নিষেধ

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর’-এ সুস্পষ্ট সাবধানবাণী উপস্থাপনের পরও তামাক (সিগারেট) গ্রহণকারী উচ্চমূল্যে তামাক সেবন করছে নিঃসংকোচে। এ বাস্তবতায় তামাক সেবন বন্ধ করা যেখানে প্রায় অসম্ভব একটি চেষ্টা, সেখানে বাংলাদেশকে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। তামাকমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রথম সোপান হতে হবে পরোক্ষ ধূমপায়ীমুক্ত বাংলাদেশ। জনসমাবেশ, বাজার, হাট, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, স্টেডিয়াম-এ ধরনের মিলনমেলায় পরোক্ষ ধূমপান বন্ধ করতে হলে জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন সুষ্ঠু আইন। বাংলাদেশে ধূমপান নিরোধ আইন অনুযায়ী, কিছু স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ। এগুলোকে জনসাধারণের স্থান এবং জনসমাগমস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিষিদ্ধ স্থানগুলো হলো—

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধূমপান একটি গুরুতর সমস্যা এবং এটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি এমন স্থান যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জন করে এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের পাঠ শেখে। কিন্তু ধূমপান এই পরিবেশের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধূমপান অন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং খারাপ অভ্যাস গড়ে তোলে। 

শিশুদের খেলার জায়গায় 

শিশুদের খেলার জায়গায় ধূমপান একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং অগ্রহণযোগ্য কাজ। এর ফলে শিশুদের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুসের রোগ এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। শিশুরা সহজেই বড়দের কার্যকলাপ থেকে শিক্ষা নেয়।

স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র

স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র যেমন হাসপাতাল, ক্লিনিক, এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ধূমপান নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এবং সংশোধিত ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী কার্যকর। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। রোগী, চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো।

সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ধূমপান

বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসসহ সব ধরনের কর্মস্থল এবং জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ। এই আইন অনুযায়ী অফিস কর্তৃপক্ষ ধূমপান নিষিদ্ধের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য। ধূমপান করলে জরিমানা করা হয়, যা আইন লঙ্ঘনের মাত্রা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোতে ধূমপান বিরোধী নোটিশ টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া। আপনার কর্মক্ষেত্রে ধূমপানের নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে চাইলে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানানো বা কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া।

গণপরিবহন বা পাবলিক প্লেসে 

বর্তমানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় সকল পাবলিক প্লেস শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার সুযোগ না থাকায় পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। গণপরিবহনসহ সকল পাবলিক প্লেসে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইন লঙ্ঘন করলে জরিমানা এবং শাস্তির বিধান রয়েছে। রেস্তোরাঁ, শপিং মল, ও সিনেমা হল ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। 

ধর্মীয় উপাসনালয়

ধর্মীয় উপাসনালয়ে ধূমপান একটি স্পর্শকাতর এবং সাধারণত নিন্দনীয় বিষয়। অধিকাংশ ধর্মীয় উপাসনালয় ধূমপান থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে, কারণ এটি পরিবেশ, স্বাস্থ্য, এবং ধর্মীয় পবিত্রতার পরিপন্থী। উপাসনালয় একটি পবিত্র স্থান যেখানে ধূমপানকে অপবিত্র কাজ হিসেবে দেখা হয়। ধূমপান আশপাশের লোকজনের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা ধর্মীয় শিক্ষার মানবতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরিপন্থী। অনেক দেশে ধর্মীয় স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ।


বাজার, শপিংমলে ধূমপান

বাজার এবং শপিংমলের মতো জনবহুল স্থানে ধূমপান সাধারণত নিষিদ্ধ থাকে। এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রণীত আইন এবং নিয়মের অংশ। ধূমপান থেকে তৈরি ধোঁয়া শুধু ধূমপায়ীর জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং আশপাশের মানুষের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে (পরোক্ষ ধূমপান বা প্যাসিভ স্মোকিং)। বাংলাদেশে, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন,অনুযায়ী, পাবলিক প্লেস যেমন বাজার, শপিং মল, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ইত্যাদি জায়গায় ধূমপান নিষিদ্ধ। এর লঙ্ঘন করলে অর্থদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

থানা, আদালত ও কারাগার 

কিছু নির্দিষ্ট স্থানে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর মধ্যে থানা, আদালত, ইত্যাদি জায়গাগুলো উল্লেখযোগ্য। আইন অনুযায়ী, জনসমাগমস্থল বা গণপরিবহনে ধূমপান করা নিষিদ্ধ। কারণ থানা বা আদালত ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে বিবেচিত।