প্রায় ১০ বছর আগে পোশাক শ্রমিক ও প্রবাস ফেরত মাজেদা খাতুনের (৬০) স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। অভাবের তাড়নায় নিরাশ্রয় মাজেদা খাতুন ফিরে আসেন বাবার বাড়িতে। সেখানে পৈত্রিক ভিটার পাশে নিজের একখণ্ড জমিতে ছোট একটি টিনের ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন তিনি। সেই ঘরের সাথেই টিনেরচাল দিয়ে একটি রান্নাঘর এবং তার পাশে আরেকটি লাকড়ির ঘর বানিয়ে জীবন কাটছিল মাজেদার।
জীবন সংগ্রামে অনেকটা ক্লান্ত এই নারী গত ১৩ জানুয়ারি বাহ্মণবাড়িয়া জেলার সড়াইল এলাকায় নিজের নাতির বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে এসে নিজের তিনটি ঘরের কোনটিরই চাল-বেড়া কিংবা কোনো আসবাবপত্রেরই হদিস পাচ্ছেন না মাজেদা খাতুন।
মাজেদা খাতুন উপজেলার টোক ইউনিয়নের বড়চালা গ্রামের মৃত আবদুল আউয়ালের মেয়ে।
এ ঘটনায় মাজেদার আপন ছোট ভাই মো. সমশের বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ একটি মামলা করেন। পরে আদালত পিবিআই গাজীপুরকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাজেদা খাতুন জানান, রাজধানীর গুলশান এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় বগুড়া জেলার এক সহকর্মীর সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তাদের সংসারে তাছলিমা নামের একটি কন্যা সন্তান হলে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সড়াইল এলাকায় বিয়ে দেন। তার মেয়ে তাছলিমা সেখানে ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখেই স্বামীর ঘর করছে।
অভিযোগ করে তিনি জানান, গত সোমবার তাছলিমার ছেলের বিবাহ উপলক্ষে তিনি স্বজনদের নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়াতে যান। সেই সুযোগে প্রতিবেশী আ. মতিন (৪৬) ও তার লোকজন বসতঘরসহ সবগুলো ঘর ভেঙে ফেলে। তারা ঘরগুলোর টিনসহ সকল আসবাবপত্র ও টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায়।
দাবি করে তিনি বলেন, তার জীবনের সমস্ত সঞ্চয় হারিয়ে এখন একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
তার আপন চাচা মো. সিরাজউদ্দিন (৮৩) জানান, ঘর ভাঙার সময় তিনি বাঁধা দিলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, মাজেদার বসতঘর ও আশপাশের প্রায় ৭০ শতাংশ জমি তার বাবার নামে সি.এস এবং আর.এস নকশায় রেকর্ডভুক্ত এবং ১৯৪৪ সাল থেকে হালনাগাদ খাজনা দিয়ে ভোগ দখল করে আসছেন। এ জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আদালতে মামলা দিলেও আদালত পরপর দুইবার তাদের পক্ষে রায় দেয়। টোক ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার শালিস বৈঠক হলে চেয়ারম্যানও তাদের পক্ষে লিখিত রায় দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আ. মতিন বলেন, এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এজন্য আমার লোকজন টিনের ঘরগুলো ভেঙে ফেলেছে।’
পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা আদালতের কপিটি হাতে পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’