মেঘমল্লার বসুকে গ্রেপ্তার দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

‘দ্য অনলি অপশন ইজ রেড টেরর (একমাত্র পথ লাল সন্ত্রাস)’- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেঘমল্লার বসুর এই ফেসবুক স্ট্যাটাসের জেরে তার নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে শাহবাগ থানায় এই জিডি করেন মো. যুবাইর বিন নেছারী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি খালিদ মনসুর।

তিনি বলেন, ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের  সভাপতির নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটা জিডি করা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।

এর আগে, বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনতিবিলম্বে মেঘমল্লার বসুকে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুবাইর বিন নেছারী। এতে তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থী গণতান্ত্রিক উপায়ে বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন, তারা শঙ্কা অনুভব করছেন, তাদের দমন করতে অতীতের মতো ফের এই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী লাল সন্ত্রাসের আশ্রয় নিতে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। কারণ আমরা ইতিহাসে দেখেছি এই লাল সন্ত্রাসীরা কীভাবে ভিন্নমতের মানুষকে বীভৎসভাবে খুন করেছে। এ সময় তিনি অনতিবিলম্বে মেঘমল্লারসহ লাল সন্ত্রাসের উসকানিদাতা ও পর্দার আড়ালের কুশীলবদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে অনতিবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের দাবিও তুলে ধরেন তিনি।

স্ট্যাটাসের বিষয়ে মেঘমল্লার বসু গণমাধ্যমকে বলেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে আমাদের ওপর সহিংসতা হয়েছে। সামনেও এই ধারা চলতে থাকবে। রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেই শ্রমিক, আদিবাসী কিংবা নিপীড়িত জাতিগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা ক্রমাগত হতেই থাকবে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আমরাও মারধরের শিকার হই।

তিনি বলেন, শিবির ও ছাত্রলীগ একই জিনিস। তারা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে লীগ হয়। আবার আওয়ামী লীগ চলে গেলে শিবির বা সমন্বয়ক হয়। স্ট্যাটাস মুছে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি স্ট্যাটাসটার একটা স্ক্রিনশট নিয়ে রেখেছি। এই স্ট্যাটাসটা এক ধরনের ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রভোকেশনের’ জায়গা থেকে দিয়েছিলাম। তার মানে এই না যে, আগামীকাল আমি একটা লাল বাহিনী গঠন করে পরশু দিন থেকে মারামারি শুরু করব। আমাদের চিন্তা করা দরকার যে, আমাদের ওপর এভাবে আঘাত আসলে আমরা কীভাবে নিজেদের সংগঠিত করব। আমরা প্রতিরোধের কথা তুলতেই এ ধরনের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অথচ আমাদের ওপর সহিংসতা বন্ধ হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। সন্ত্রাসী কর্মকা-ের ইঙ্গিত এলে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। এ সময়ে এসে লাল সন্ত্রাসের মতো বিষয়ের ইঙ্গিত দেওয়া কাক্সিক্ষত নয়।