১৫ মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে আজ। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টা) এই চুক্তি কার্যকর হবে। আর এই বহুল আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি শুরু হলে নিজ ঘরে ফেরার প্রহর গুনছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা।
গত বুধবার মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় যুদ্ধরত দুই পক্ষ হামাস ও ইসরায়েল। খবর বিবিসি ও আল জাজিরা।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই নিজ বাড়িতে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছেন যাযাবর ফিলিস্তিনিরা। তবে এই আনন্দের সঙ্গে রয়েছে সংশয়। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতিতে আনন্দিত হলেও ভয় ও সংশয় রয়েই যায়। কারণ ইসরায়েলিদের ওপর বিশ্বাস করতে পারছেন তারা, যেকোন মুহুর্তে হামলা শুরু করতে পারে দেশটি।
এদিকে আল-জাজিরা জানিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহর ছাড়তে শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনারা। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরের কেন্দ্র থেকে তাদের যানবাহন সরিয়ে নিচ্ছে। গাজার দক্ষিণ সীমান্তে ফিলাডেলফি করিডোরে অবস্থান নিতে শুরু করেছে তারা।
এছাড়া যুদ্ধবিরতির শুরু হলে গাজায় প্রবেশের জন্য সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে শত শত গাড়ি।
আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা গাজায় শিশুদের জন্য খাদ্য, পানি এবং ওষুধ সরবরাহে প্রস্তুতি নিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, গাজায় থাকা ১ কোটি ১০ লাখ শিশুর অধিকাংশই বর্তমানে জরুরি খাদ্যের অভাবে রয়েছে। অনেক শিশুই দিনে এক বেলা খাবারের ওপর নির্ভর করছে।
তবে যুদ্ধবিরতির আগ মূহুর্তেও গাজায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, মধ্য গাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে বেশ কিছু আবাসিক ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া উত্তর গাজায় বিমান হামলা এবং রাফাহ শহরে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে।