একটা গানের আসর কিংবা গানের আড্ডা হবে আর সেখানে সেই তুমি গানটা হবে না, তা হয় না। আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া এই গান সমস্ত আড্ডায় একবার হলেও গাওয়া হবে, যে এটাই এক অলিখিত নিয়ম। নিশ্চয়ই গানের ভালো লাগার একটা ব্যাপার তো রয়েছেই।
তবে এবার এক রিকশাচালকের কণ্ঠে এই গান শুনলে সংগীতপ্রেমীরা চমকে গেল। ব্যান্ডশিল্পী রোমিও এই রিকশাচালকের সন্ধান পান। তিনি তার কণ্ঠে গান শোনার পর মুগ্ধ হন। এরপর তাকে ডেকে আনেন ক্যামেরার সামনে। রোমিও গিটার বাজালেন আর সেই রিকশাচালক গেয়ে চললেন-
‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে
সেই আমি কেন তোমাকে দুঃখ দিলেম
কেমন করে এত অচেনা হলে তুমি
কীভাবে এত বদলে গেছি এই আমি
ও বুকেরই সব কষ্ট দুহাতে সরিয়ে...’
সবাই গান শুনে মন্তব্য করলেন ভালো হয়েছে, ভালো হয়েছে। রোমিও ভিডিও পোস্ট করে লিখেছেন, আপনাদের এই রিকশাওয়ালা ভাইয়ের গান ভালো লাগলে সাপোর্ট করুন আমি তাকে Avoid Romio ব্যান্ডে নিয়ে কাজ করবো।
৩২ বছর আগে ‘সেই তুমি’ গানটি মালিবাগের একটি বাড়িতে বসে লিখেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। তিনি তখনো জানতেন না এটি কতটা জনপ্রিয় হবে। আজ এতোদিন পরেও ‘সেই তুমি’ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের কাছে প্রাসঙ্গিক। বাচ্চু আজ চলে গেলেন, কিন্তু তাঁর এই সৃষ্টি রয়ে যাবে বাংলাদেশের মানুষের মনের মণিকোঠায়।
১৯৯৩ সালে মালিবাগের একটি বাড়িতে বসে এই গানটি লিখেছিলেন বাচ্চু নিজেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা, টানা বসে লিখে শেষ করেছিলেন।
আইউব বাচ্চু বলেছিলেন, ‘দিনক্ষণ ঠিক মনে নেই। তবে ১৯৯৩ সালের কোনো একদিন হবে। আমি তখন পশ্চিম মালিবাগে থাকতাম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক বসাতেই গানটির সৃষ্টি। আমারই লেখা। আমারই সুর করা। আমারই গাওয়া। এক লাইন লিখি আর গিটারে সুর করি। এভাবে গানটা তৈরি হয়। অবশ্য গানটি রেকর্ড করতে অনেক সময় লেগেছে। সংগীত আয়োজনে সময় লেগেছে দুই দিন। কণ্ঠ দিতে বেশি সময় লাগেনি।’
গানটি শুনুন