নিরব ও তার গোলাপ

টানা কয়েক মাসের আন্তর্জাতিক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন চিত্রনায়ক নিরব। ফিরেই বছরের শুরুতে দিলেন সিনেমার খবর। চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ‘গোলাপ’ নামের একটি সিনেমায়। সিনেমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন অনন্যা সুগরা

‘গোলাপ’ প্রসঙ্গে জানতে চাই...

সিনেমাটির গল্প একটু ভিন্ন আবার মনে হবে খুব চেনা। আপাতত এটুকুই বলতে পারব। অনেক দিন ধরে সিনেমাটি নিয়ে কথা হচ্ছিল। এর গল্প এবং পরিচালকের পরিকল্পনা শুনে মনে হলো, এটা করা উচিত। এটা তার প্রথম সিনেমা। কিছুটা প্রস্তুতিরও বিষয় ছিল। এখানে আমার যে চরিত্রটা, সেটার যেন জাস্টিস হয় সেই চেষ্টাই করছি।

সিনেমাটির জনরা কী, শুটিং কবে শুরু হচ্ছে?

সাসপেন্স থ্রিলার এবং অ্যাকশন ঘরানার। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে সিনেমাটির শুটিং শুরু হবে। ঢাকা ও সৈয়দপুরের বিভিন্ন লোকেশনে এর চিত্রায়ণ হবে। এরপর ঈদুল আজহাকে টার্গেট করে শুরু করতে যাচ্ছি।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

সিনেমা, বিজ্ঞাপন পাশাপাশি বিভিন্ন এন্ডোরসমেন্ট নিয়ে ব্যস্ত। সম্প্রতি পামি কোলার একটি বিজ্ঞাপন করলাম। এটি মূলত আফগানিস্তানের একটি ব্র্যান্ড। পামি কোলার যারা ডিস্ট্রিবিউটর, তাদের সঙ্গে ব্র্যান্ডটির বাংলাদেশি শুভেচ্ছাদূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। এর পাশাপাশি সিনেমার শুটিং নিয়েও বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।

নতুন সিনেমার কী খবর?

আমার দুটি সিনেমা ‘কয়লা’ ও ‘স্পর্শ’ মুক্তির অপেক্ষায় আছে। যদিও ‘স্পর্শ’ সিনেমাটার কিছু অংশ শুটিং এখনো বাকি আছে। এ বছরেই সিনেমা দুটি মুক্তি পাবে। এ ছাড়া আরও দুটি সিনেমা নিয়ে কথা হচ্ছে। ডিরেক্টর, পুরো টেকনিক্যাল টিম নিয়ে আমরা বসছি। এখনই বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না।

গেল বছরটা কেমন ছিল?

ভালো-মন্দ নিয়েই তো মানুষের জীবন। আমার গেল বছরটা ভালো আর মন্দ মিলেই কেটেছে। কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। সিনেমা রিলিজ হয়েছে, আর সঙ্গে বিভিন্ন দেশ ট্যুর তো ছিলই। তারপর তো দেশে সরকার পতন হলো। শুধু বিনোদন জগৎই না, পুরো দেশেই একটা অস্থির অবস্থা কাজ করছিল। সিনেমা থেকে শুরু করে অনেক কাজই অনেকটা সময় বন্ধ ছিল। কিছুটা সময় লেগেছে, যদিও একটু একটু করে আবার সবকিছু স্বাভাবিক হয়। ভালো ভালো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে শেষের দিকে। দর্শকরাও একটু একটু করে আবার হলমুখী হচ্ছে।

আর গত বছরের লম্বা একটা সময় আমি দেশের বাইরেই কাটিয়েছি। ১০-১৫ দিন হলো আমি দেশে এসেছি। যুক্তরাষ্ট্র, ব্যাংকক, কাতার, মালয়েশিয়া, দুবাই, ভারতসহ আরও কিছু দেশে গিয়েছিলাম অফিশিয়াল ট্যুরে। এর বাইরে অংশ নিয়েছি কিছু অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেও। আবার ফ্যামিলি ট্যুরও ছিল এর মধ্যে। সব মিলিয়ে গত বছরটা খুব ভালো কেটেছে আমার। সামনে আরও বিদেশ সফর আছে। কিছু কাজ জমা আছে, এর মধ্যে সেগুলো শেষ করে নেব।

নতুন বছরের প্রত্যাশা

আমি খুব আশাবাদী মানুষ। কাজ নিয়ে থাকতেই আমি পছন্দ করি। ৫ আগস্টের পর দেশের পরিস্থিতি অনেক খারাপের দিকে গেল। অনেক দিন তো কোনো সিনেমা মুক্তি পায়নি, সেভাবে নতুন কাজও শুরু হচ্ছিল না। আমরা সবাই খুব অস্থির একটা মুহূর্ত কাটিয়েছি। সেই অস্থিরতা কাটিয়ে এখন কিন্তু অনেকটাই স্বাভাবিক। গেল বছরের শেষটাও কিন্তু বেশ সুন্দর ছিল। ভালো ভালো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। মেহজাবীনের ‘প্রিয় মালতী’, জয়া আহসানের ‘নকশি কাঁথার জমিন’, তারপর মৌসুমী হামিদের ‘নয়া মানুষ’। এরপর নতুন বছরের শুরুর মাসেই একাধিক সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। আবারও সিনেমা নিয়ে সব জায়গায় আলোচনা হচ্ছে। সবকিছু কিন্তু বেশ পজিটিভ। এরপর ভালোবাসা দিবসেও সিনেমা আসছে। তারপর তো ঈদই।

ঈদে আরও অনেক ব্যস্ত হয়ে উঠবে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি। তবে আমার কথা হচ্ছে, ঈদের সময়টায় সিনেমা নিয়ে যে পরিমাণ আলোচনা হয়, বছরের অন্যান্য সময়েও এমনটা হলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটা আরও অনেক এগিয়ে যেত। এর জন্য অবশ্যই ভালো ভালো সিনেমা প্রয়োজন। আর সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে প্রচারণা। কয়েকজনের সিনেমা ছাড়া বাকি অন্যদের সিনেমার নিয়ে এত আলোচনা হয় না। সিনেমা তো অনেক মুক্তি পাচ্ছে। কিন্তু দর্শক কি সব সিনেমার খবর রাখছে? এর জন্য সঠিক প্রচারণা প্রয়োজন। এদিকে প্রযোজক, পরিচালকদের মনোযোগ দিতে হবে।