প্যানক্রিয়াস এনজাইম ও হরমোন তৈরি করে। এটি স্পঞ্জের মতো নরম, ওজন মাত্র ৭৫ গ্রাম। পেটের পেছনে মেরুদ-ের সামনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত। তিন প্রকারের এনজাইম তৈরি হয় কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা খাবারের জন্য অ্যামাইলেজ, প্রোটিন খাবারের জন্য ট্রিপসিনও কাইমোট্রিপসিন, ফ্যাট খাবারের জন্য লাইপেজ। দুই প্রকারের হরমোন তৈরি হয়। যা ইনসুলিন ও গ্লুকাগন। ইনসুলিন রক্তে সুগারের মাত্রা কমায়, গ্লুকাগন রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়ায়।
প্যানক্রিয়া : অনেক প্রকার রোগে আক্রান্ত হতে পারে । যেমন : ইনফেকশন, পাথর ও ক্যানসার।
লক্ষণ : পেটের ওপরের মাঝখানে এই ব্যথা হয়, ব্যথাটা পেছনের দিকে যায়, তখন সামনের দিকে ঝুঁকে থাকতে হয়, যাতে ব্যথা কিছুটা কম অনুভূত হয়। ব্যথার সঙ্গে বমি হয়, কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন থাকে। প্যানক্রিয়াটিক টিস্যুর ওপর চাপ পড়ে, তখন এই টিস্যু শুকিয়ে আসে, যাকে বলা হয় এট্রফি। এই অবস্থার ফলে প্যানক্রিয়াসের এনজাইম ও হরমোন তৈরি বন্ধ হয়ে যায়। ডায়রিয়া ও ডায়াবেটিস হয়ে থাকে, যা আর কখনো ভালো হয় না। তবে যদি প্যানক্রিয়েটিক টিস্যু স্থায়ীভাবে নষ্ট না হয়ে শুধু ইনট্রাডাকটাল প্রেশারের কারণে চাপের মধ্যে থাকে, তবে সার্জারি করলে ডায়াবেটিস ও ডায়রিয়া ভালো হয়ে যায়, ব্যথাও ভালো হয়ে যায়। পাথর দীর্ঘদিন থাকার কারণে প্যানক্রিয়াসে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
পাথরের অবস্থান : প্যানক্রিয়াসের মাঝখানে একটি নালি থাকে, যার নাম মেইন প্যানক্রিয়েটিক ডাক্ট বা নালি। এটি হেড থেকে টেইল পর্যন্ত আড়াআড়িভাবে অবস্থান করে। এর ডায়ামিটার হেডে ৩ মিলিমিটার, বডিতে ২ মিলিমিটার, টেইলে ১ মিলিমিটার।
রোগ নির্ণয় : আলট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান ও এমআরসিপি নির্দিষ্ট পরীক্ষা পদ্ধতি; যা রোগ নির্ণয়ের করতে সাহায্য করে।
চিকিৎসা : মেডিসিন, এন্ডোসকপিক ও সার্জারি চিকিৎসা দেওয়া হয়। মেডিসিন চিকিৎসা শুধু রোগের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করে। পাথরের চিকিৎসায় এন্ডোসকপি ও সার্জারির ভূমিকা অনেক। এন্ডোসকপির মাধ্যমে পাথর নির্মূল হয় সীমিত ক্ষেত্রে। সার্জারি চিকিৎসার সবচেয়ে বেশি কার্যকর। সব চিকিৎসা যখন ব্যর্থ তখন সার্জারি করার সুযোগ তৈরি হয়।